সারাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। নৌপথগুলো সচল করার ব্যবস্থা নিয়েছি। রেলপথ সংযোগ পুনরায় স্থাপন করে এবং আরও নতুন নতুন অঞ্চলে রেললাইন সম্প্রসারণ করে রেলে যোগাযোগের সুযোগটা বাড়াচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কের অল ওয়েদার সড়ক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। শুরুতে উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পের ওপর ভিডিও চিত্র ও সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। এছাড়া গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মিঠামইন প্রান্ত থেকে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইয়াকুব আলী। মিঠামইন প্রান্তে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলার কিন্তু এক একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এক এক এলাকায় বিভিন্ন পণ্য বিশেষভাবে উৎপাদিত হয়, উৎপাদিত পণ্য যেন বাজারজাত হয়, যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত তারা যেন ন্যায্যমূল্য পায়, আমরা তারই ব্যবস্থা করতে চাই। অর্থনৈতিকভাবে মানুষ যেন আরও উন্নত হয়, সমৃদ্ধশালী হয়, সেটাই করতে চাচ্ছি। অষ্টগ্রামের পনির তো আন্তর্জাতিক মানের। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের পনির তৈরি হয়, কিন্তু বাজারজাত করা অসুবিধা ছিল বলে সেটা খুব ভালোভাবে কার্যকর হয়নি। এবার যেহেতু রাস্তা হয়ে গেছে, এখন আমি মনে করি অষ্টগ্রামের পনির উৎপাদিত হয়ে ঢাকা শহরে শুধু না, আমরা বিদেশেও পাঠাতে পারবো, সেভাবে সুযোগটা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিল্প অঞ্চল গড়ে তুলছি। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। যে অঞ্চলে যে পণ্যটা উৎপাদিত হয় তার ভিত্তিতে যেন শিল্প গড়ে ওঠে, সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি। যেহেতু হাওর অঞ্চল। হাওরে বিশাল মৎস্য ভাণ্ডার আছে। সেই মৎস্য উত্তোলন, মৎস্য চাষ, প্রক্রিয়াজাত করা, বাজারজাত করার যাতে সুবিধা হয় সেভাবে শিল্প গড়ে তুলতে চাই। খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, যাতে কৃষির ওপর নির্ভরশীল অঞ্চলগুলো শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল না থেকে উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। দেশে-বিদেশে পণ্য রফতানি করতে পারে।

হাওরবাসীর অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষ এখন শুধু মাছ তুলবে না, মাছ যেখানে রাখবে, মাছ সংরক্ষণ করার জন্য বরফকল থেকে বাকি সমস্ত কিছু করেছি। কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ এই তিন জেলায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র করে দিচ্ছি। হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে এ এলাকায় আগেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথাও এ সময় উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।

শীতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ নির্মাণ থেকে শুরু করে অক্সিজেনের ব্যবস্থা এবং সব ধরনের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। তাছাড়া আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় দুই হাজার ডাক্তার ও তিন হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি, টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছি, আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি।

সড়কের উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি উদ্যোগ না নিতেন তাহলে এখানে যে এরকম সড়ক করা যায় সেটা আমরা জানতামই না। রাষ্ট্রপতির অনুপ্রেরণায় তারই উদ্যোগে আজ এই সড়ক। ইটনা মিঠামইন এবং অষ্টগ্রামের মানুষ তারা আগে যে কষ্টভোগ করতেন, সেটা আর ভোগ করবেন না বলে জানান সরকার প্রধান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares