সাংসদ ইসরাফিলের মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক:

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কাশিমপুরে ২০১৫ সালের প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর ‘পল্লী শ্রী নিকেতন খামার’ গড়ে তুলেন প্রয়াত সাংসদ ইসরাফিল আলম। ক্ষমতা দেখিয়ে স্থানীয়দের জিম্মি করে সেই জমি সাংসদ নিজের নামে দলিল করে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ার পর এমন অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জমি ফেরত পেতে মানববন্ধন করেছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তিমোড়ে নওজোয়ান মাঠের সামনে ‘কাশিমপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ’ ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে জমিদার বাড়ি এবং তৎসংলগ্ন ২০১৫ সালে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের কাছ থেকে একই স্থানে প্রায় ৪৫ বিঘার মতো জমি দখল করে নেয় ইসরাফিল আলম। এরপর আরসিসি পিলারের উপর টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা জমি। যেখানে বেড়ার ভিতরে রয়েছে ৩০ বিঘা এবং এর আশপাশে রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমি। নিজের স্বপ্ন পূরণে সেখানে ‘পল্লী শ্রী নিকেতন খামার’ করেছেন তিনি। যেখানে রয়েছে উন্নত জাতের দেশী-বিদেশী গরু-ছাগল ও মুরগি এবং হ্যাচারী।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, খামার করার জন্য ওই সময় দাম দিয়ে জমি নেয়া হবে বলা হয়। এ জন্য কাশিমপুর গ্রামের ৪০-৪৫ জনকে সাদা স্ট্যাম্পে টিপসহি এবং স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন তৎকালীন সাংসদ। কিন্তু তাদের জমির দাম না দিয়ে উল্টো মামলা হামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এলাকাবাসীরা ভয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলার ও বাড়ি থেকে বের হওয়ার সাহস পেতেন না।

কাশিমপুর গ্রামের ছোট যমুনা নদীর পাশে তৎকালিন রাজার প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি রয়েছে। ওই জমিতে গত ৩০-৩৫ বছর থেকে গ্রামের লোকজন ভূমি অফিস থেকে একই সাথে ২৭ ভাগে চেক কেটে চাষাবাদ করে আসছিলেন। ওই জমি ইসরাফিল দখল করেন এবং ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে ‘পল্লী শ্রী নিকেতন খামার’ টি ভরাট করে উঁচু করে।

মানববন্ধনে জানা যায়, কাশিমপুর গ্রামের খোদাবক্স সরদারের দুই ছেলে সাইদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলাম সাদেক। সাদেকুল ইসলাম সাদেক গত ২০০৪-১২ সালে সৌদিতে ছিলেন। দেশে এসে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। ২০১৫ সালে ইসরাফিল আলমের বিভিন্ন মিথ্যা মামলাসহ হয়রানি স্বীকার হতে হয়েছে তাকে। আপোষে জমি না দেয়ায় তাকে ইয়াবার মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। দুই মাস জেল হাজত খেটে জামিনে বেরিয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন দুশ্চিন্তায় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে না পারায় ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর মারা যান।

ভুক্তভোগী সাদেকুল ইসলাম সাদেক বলেন, ২০১৫ সালে ৬ বিঘা জমির পাকা ধান ইসরাফিল আলম তার লোকজন দিয়ে কেটে নিয়ে যান। এরপর দখল করে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেয়া হয়। পানির ফ্যাক্টরি হবে বলে দাম দিয়ে জমি নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাইয়ের নিকট থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। পরে সাফ জানিয়ে দেন জমিতে যেন আর না আসা হয়। জমিতে এলে ক্রসফায়ার দিয়ে মেরে ফেলা হবে। এ কথা শুনে তার সামনেই বড় ভাই সাইদুল ইসলাম স্ট্রোক করে মারা যান। আমার কাছ থেকে জমি নিতে চাইছিলেন। জমির ন্যায্য মূল্য না পাওয়া পর্যন্ত কোন প্রকার স্বাক্ষর করবো না বলে জানিয়ে দিই। পরে আমাকে ইয়াবার মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ বলেন, ইসরাফিল আলম শুধু জমি দখল করেই ক্ষান্ত হননি। বিভিন্ন রকম ভয়ভিতি ও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া করেন। তাই তার মৃত্যুর পরে আমরা আমাদের জমিগুলো পুনরায় ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী সাদেকুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ, খোদাবক্স ও আব্দুস সাত্তারসহ অনেকে। এ ছাড়া মানববন্ধনে শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares