শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে কি ঈদের পরে ?

ঢাকা: করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাতে করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে থমকে গেছে বিভিন্ন স্তরের পাবলিক পরীক্ষাও। এমতাবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, তা নিয়েই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

তিনি বলেছেন, করোনার সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলে দেয়া হবে। এরপর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করা হবে। আর অন্যান্য ক্লাস পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, ‘লকডাউন শেষে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম শুরু হবে। আগের যে অ্যাসাইনমেন্ট জমা আছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ে একটা ধারণা পাবো আমরা। এর থেকে প্রয়োজনে নতুন নির্দেশনা দিতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ডাটাও সংগ্রহ করছি। শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে তা পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

গত সোমবার (১০ মে) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর যৌথ গবেষণা জরিপে জানানো হয়েছে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান। আর মাধ্যমিকের ৯৬ শতাংশ অভিভাবক সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

করোনার প্রাদুর্ভাবে প্রাথমিকে ১৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনার বাইরে আছে বলেও জরিপে উঠে আসে।

গত ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা ছিল। কিন্তু নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় পুনর্নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে বলে গত ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয় করোনায়। তার আগের দিন, অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর করোনা পরিস্থিতির ক্রম অবনতি হওয়ায় দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়।

সরকারের সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন বহাল থাকছে। তবে করোনা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ঈদের পরপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যে সম্ভাবনা, সেটাও পিছিয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares