লালমোহনে নাতি বৌয়ের ইন্ধনে দাদা শ্বশুরের বসতঘরে হামলা

লালমোহন প্রতিনিধি 

ভোলার লালমোহনের ধলীগৌরনগরে নাতি বৌ মিনারা বেগমের ইন্ধনে দাদাশশুর আঃ অহিদ সর্দারের বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুমারখালী গ্রামের পলপান বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির আঃ অহিদের নাতি ও আঃ রহিমের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের সাথে প্রায় ১০বছর পূর্বে পাশ্ববর্তী লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড নতুন বাজার এলাকার ডাকুয়া বাড়ির আমিনুল হকের মেয়ে মিনারা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আলাদা ঘর করে থাকে তারা। তাদের ঘরে দুটি সন্তানও রয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন পেশায় দিনমজুর। গত মঙ্গলবার কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকা রওয়ানা হলে টাকার প্রয়োজন পড়ে তার। তাই ফুফ নুরজাহানের কাছ থেকে টাকা ধার করে ঢাকা চলে যায় সে।

সাদ্দামের দাদা আঃ অহিদ সর্দার বলেন, স্বামীকে টাকা ধার দেয়ার অপরাধে ফুফুর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে সাদ্দামের স্ত্রী মিনারা। একপর্যায়ে বাবার বাড়ি ফোন করে বাবা ও ভাই ইব্রাহিমকে খবর দেয় সে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিনারার বাবা ও ভাই আমাদের বাড়ি আসে এবং তার বাবা এসে আমার ঘরে এসে বসে। তবে ইব্রাহিম ঘরে না ঢুকে বরং সাদ্দামের ঘরে গিয়ে স্বর্ণালংকারসহ রাতের আঁধারে বোন মিনারাকে নিয়ে নিজেদের বাড়ি চলে যায়।

এদিকে ইব্রাহিম কে না পেয়ে তাকে ফোন করে বাবা আমিনুল হক। পরে রাত ৯টার দিকে নিজেদের এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত লোকজন নিয়ে পুনরায় আমাদের বাড়িতে এসেই বসতঘরের দরজা, জানালা ভাঙচুর করে ইব্রাহিম। এতে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সুযোগ বুঝে বহিরাগতরা সটকে পড়ে। তবে ইব্রাহিম ও তার বাবাকে আমরা আটক করতে সক্ষম হই। পরে ওই রাতেই ফয়সালার আশ্বাসে স্থানীয় মোস্তফা মেম্বার ও লর্ডহার্ডিঞ্জের হাফেজ মিয়া আটক বাপ ছেলেকে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

অপরদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহবধূ মিনারা বেগম বলেন, আমার দাদাশ্বশুর ও তার বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে আমি লালমোহন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি।

হামলার বিষয়ে জানতে চেয়ে মিনারা বেগমের পিতা আমিনুল হক ও তার ভাই ইব্রাহিমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমারখালী ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ মোস্তফা মিয়া হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংবাদ শুনে ওইদিন রাতে গিয়ে তাদের ঘরের দরজা জানালা ভাঙা এবং ইব্রাহিম ও তার বাবাকে ঘরে বসাবস্থায় দেখতে পাই। পরে ফয়সালার আশ্বাসে তাদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া ঢাকায় অবস্থান করায় ফয়সালার তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares