লালমোহনে তিন বিয়ের পরও স্কুল ছাত্রী নিয়ে পালিয়েছে কাউন্সিলর প্রার্থী

লালমোহন প্রতিনিধিঃ ভোলার লালমোহনে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী কে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগ তুলে সোমবার সকালে ওই ছাত্রীর বাবা মোঃ ইউছুফ লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ইউছুফের মেয়ে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের ও কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাবুদ্দিনের বাড়ী পাশাপশি হওয়ায় প্রায়ই ইউছুফের ঘরে আসত সে। এই সুযোগে কিশোরী মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং সোমবার সকালে তাকে নিয়ে উধাও হয় শাহাবুদ্দিন। তাই মেয়েকে ফিরে পেতে শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা ইউছুফ।

ইউসুফ জানায়, অভিযোগের খবর পেয়ে বিকালে মেয়েকে তারা ভাই আবদুর রহিমের বাসায় পৌঁছে দেয় অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন। পরে মেয়ের সন্ধান থানায় জানালে পুলিশ মেয়েটিকে থানায় নিয়ে আসে।

ইউসুফ আরও বলেন, শাহাবুদ্দিন ও তার পরিবার উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। ভয়ে এলাকার কেউ ওদের বিরুদ্ধে কথা বলেনা। মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতে বারণ করতে গিয়েও শাহাবুদ্দিনে রোষাণলের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ইউসুফ।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, মেয়েকে জনৈক শাহাবুদ্দিন নিয়ে গেছে মর্মে সকালে থানায় অভিযোগ করে মেয়েটির বাবা ইউসুফ। পরে শাহাবুদ্দিন কে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি অস্বীকার করে সে। পরে বিকেলে মেয়েটির সন্ধান পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয় এবং তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহাবুদ্দিন এর আগে তিনটি বিয়ে করেছেন। সেখানে তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। তিন স্ত্রীর মধ্যে একজন কে তালাক দিলেও বর্তমানে তার ঘরে দুই স্ত্রী রয়েছে। শুধু তাই নয়, শাহাবুদ্দিনের অন্য ৪ভাইয়ের মধ্যে আরও দুজনও একাধিক বিয়ে করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহাবুদ্দিন বর্তমানে পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও মূলত তার বাড়ি ছিল চরফ্যাশন উপজেলার কাশেমগঞ্জ। তার পিতার নাম সাহেব আলী।

সেখানে তার পরিবার বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে অনেক অপকর্ম করেছিল। পরে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে সেখান থেকে ভয়ে পালিয়ে লালমোহন পৌর ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুর রবের বাড়িতে আশ্রয় নেয় তারা। আবদুর রব সম্পর্কে শাহাবুুদ্দিনে মামা। পরে মামার বাড়িতে থেকে পাওয়ার টিলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো শাহাবুদ্দিন।

টিলার চালক থেকে হঠাৎই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় সে। গত পৌরসভা নির্বাচনে ৩নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে সে। পূর্বে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে শাহাবুদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares