লালমোহনে আবাসনের জায়গা দখল করে মিলঘর নির্মাণ, হুমকিতে আবাসন

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের “রায়চাঁদ আবাসন প্রকল্প” এর জায়গা দখল করে রাইস মিল বসানো ও পার্শ্ববর্তী স্থাপনা ভেঙে সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আনোয়ার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ কয়েকবছর যাবত দখল প্রক্রিয়া চললেও এখনও বিষয়টি নজরে আসেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। তাই আবাসনবাসীদের মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, ২০০৭ সালে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অসহায় ও ভূমিহীনদের আশ্রয়ের লক্ষে “রায়চাঁদ আবাসন প্রকল্প” এর আওতায় ৩০টি ঘর তৈরি করা হয়।

আবসনের বাসিন্দাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে শৌচাগার নির্মাণ করা হয় এবং কমিউনিটি সেন্টার তৈরির প্রস্তুতি নিয়েও অদৃশ্য কারণে কাজ অসমাপ্ত রেখে সটকে পড়ে ঠিকাদার।
এ সুযোগে প্রায় ৭বছর আগে কমিউনিটি সেন্টারের জন্য নির্ধারিত ওই জায়গা দখল করে রাইস মিল বসায় একই এলাকার আবদুল কারীর ছেলে আনোয়ার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসনের একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিনের স্থাপিত শৌচাগারগুলো নরবরে হয়ে গিয়েছিল। তারপর আবার আনোয়ারের রাইস মিলের ঝাঁকুনি। ফলে শৌচাগারগুলো পুরোপুরি ভেঙে গেছে।

সুযোগে দেয়ালের ইট ও মেঝের রডগুলো নিয়ে গেছে আনোয়ার। এখন আনোয়ারের রাইস মিলের কারণে একদিকে যেমন শব্দ দূষণ হচ্ছে, অপরদিকে ইঞ্জিনের বিকট ঝাঁকুনিতে পাশ্ববর্তী ঘরগুলোও ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে আবাসনের জায়গা দখল করলেও আনোয়ার কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ আনোয়ার স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বশির আহমেদের আত্মীয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার জানান, এখানে কমিউনিটি সেন্টার হওয়ার কথা ছিল, তবে হয়নি। তাই জায়গা খালি পেয়ে রাইসমিল ও মুদি দোকান দিয়েছি। তবে শৌচাগারের ইট ও রড নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
ইউপি সদস্য বশির আহমেদ বলেন, শুনেছি আনোয়ারদের জায়গার উপর আবাসন নির্মাণ হয়েছিল। তাই সে খালি জায়গা পেয়ে সেখানে বসেছে।

এদিকে আনোয়ারের কাছ থেকে সরকারি আবাসনের জায়গা উদ্ধারের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করে স্থানীয়রা। পরে ঘটনার সত্যতা তদন্তের দায়িত্ব পান পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আবুল কালাম আজাদ।তবে তিনি দায়সারা তদন্ত করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, তদন্ত করেছি। উপজেলা ভূমি অফিসে এর প্রতিদিন জমা দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares