রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব পার্চিং উৎসব

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে চলতি রোপা আমন মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে পরিবেশ বান্ধব পোকা-মাকড় নিধন পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধকরণ পার্চিং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নবগ্রাম ব্লকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ পার্চিং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করা হচ্ছে। কৃষক যেন তাদের ফসল নিরাপদে-নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারে এটা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ধান ক্ষেতে পার্চিং করা এসব কার্যক্রমেরই একটি অংশ।উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সফিকুল আলম বলেন, ধান ক্ষেতে ধইঞ্চা গাছ লাগিয়ে, মরা ডাল বা কঞ্চি পুঁতে পাখি বসার মাধ্যমে পোকা নিয়ন্ত্রণের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিকে আমরা পার্চিং বলে থাকি।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান বলেন, কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে পার্চিং করার পরামর্শ দিয়ে আসছে। পার্চিং করার মাধ্যমে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ হয়, ফসলের উৎপাদন খরচ কমে যায়, কীটনাশকের ব্যবহার কমায় ও পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পায়। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার সকল কৃষককে জমিতে বিঘা প্রতি অন্তত ৫টি কঞ্চি/ডাল পুঁতে আমাদের পার্চিং উৎসবে একাত্মতা প্রকাশ করার আহ্বান জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। বর্তমানে আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় জৈবিক পদ্ধতিতে আমরা কৃষি কাজ করছি। ধান ক্ষেতে ধৈঞ্চা গাছ লাগিয়ে লাইভ পার্চিং করে অথবা মরা ডাল বা কঞ্চি পুঁতে পার্চিং করে পোকা নিধনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ শাক-সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কৃষি বিভাগ সকল স্তরে নিষ্ঠার সাথে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে কাজ করছি।

পার্চিং উৎসবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোদাগাড়ীর সকল স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় কৃষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares