রাজশাহীতে কাউন্সিলরের কাছে ত্রাণ চেয়ে লাঞ্চনার শিকার নারী ও বৃদ্ধ

রাজশাহী প্রতিনিধি:
করোনার কারনে দেশ জুড়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। আর সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কোন অনিয়ম ছাড়া ত্রাণ দিতে বলে হলেও তা মানছেনা অনেকে। প্রতিদিন বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসছে নির্যাতন সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আর অভিযোগ।

এবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের কাছে ত্রাণ চাইতে গিয়ে লাঞ্চনার স্বীকার হয়েছেন ওই ওয়ার্ডেরই এক নারী এবং বৃদ্ধ। আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চেম্বারে ঘটনাটি ঘটে। 

নির্যাতিত বৃদ্ধের নাম মংলা কুমার পাল (৫৪)। ২৪ নং ওয়ার্ডে সাধুরমোড় এলাকাতেই তিনি বসবাস করেন। মংলা কুমার পেশায় একজন চা ওয়ালা। করোনার কারণে দীর্ঘদিন চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় তিনি খুব কষ্টে দিন যাপন করছেন বলে জানান। অভাবে পড়েই তার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরমান আলীর কাছে ভোটার আই.ডি কার্ড নিয়ে যান খাবার সামগ্রী পাবার আসায়। কিন্তু খাদ্য সামগ্রীর বদলে তার কপালে জোটে মার।

ঘটনার বিষয়ে সংবাদ কর্মীদের মংলা কুমার বলেন, ‘দীর্ঘদিন চায়ের দোকান বন্ধ থাকায় অভাবে পড়ে কাউন্সিলরের কাছে সরকারী খাদ্য সামগ্রী নিতে যায় আমার ভোটার কার্ড নিয়ে। কিন্তু তিনি ত্রাণ চাওয়ার কথা শুনেই আমাকে তার হাতে থাকা মোটা রেজিষ্টার খাতা দিয়ে মেরে অফিস থেকে বের করে দেন। সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করেন তিনি।’
আক্ষেপের স্বরে মোংলা বলেন, ‘জনপ্রতিনিধির কাছে এমন ব্যবহার পাবো জানলে না খেয়ে মরতাম, কিন্তু খাবার চাইতে যেতাম না।’

অপরদিকে ওই একই ওয়ার্ডে সাধুরমোড় এলাকার লাঞ্চনা ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার রাণী বেগম (৩২)। তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনাক্ষম ব্যক্তি তার স্বামী। রাণীর স্বামী পেশায় রাজশাহীর আরডিএ মার্কেটের এক ছোট দোকানের কর্মচারী। দীর্ঘদিন লকডাউনে চলার কারণে স্বামীর আয় রোজগার বন্ধ। যার কারণে তিনিও যান কাউন্সিলর আরমান আলীর কাছে সরকারী অনুদান নিতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন।
লাঞ্চনা ও নির্যাতনের বিষয়ে রাণী জানান, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বামীর ইনকামও বন্ধ। ছেলে-মেয়েকে খাবার দেওয়ার মতো ঘরে কোনো খাবার নেই। আমরা কারও কাছে কথনও হাত পাতিনি পরিস্থিতির শিকার হয়েই জীবনে প্রথম কাউন্সিলরের কছে যায় সরকারী ত্রাণ নেওয়ার জন্য।  কাউন্সিলরকে আমি বলি- ‘চাচা একটু শোনেন। তাতেই তিনি রেগে আমাকে বলেন- আমি কি তোর মায়ের……!! যে তুই আমাকে চাচা ডাকছিস! এছাড়াও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজসহ নানান কথা শোনায় যা সহ্য করার মতন নাহ। সরকারি খাবার নিতে গিয়ে এমন লাঞ্চনার স্বীকার হতে হবে আমি জানতাম না বলে কাঁদতে কাঁদতে থাকেন।
সাধুরমোড় এলাকার কয়েকজন স্থানীয় ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর আরমান আলী খুব বদমেজাজী লোক। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হওয়ার কারণে তার কাছে ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। তাছাড়া এলাকায় যে সরকারি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তা সব তার নিজের পছন্দ মত লোকেদের দেওয়া হচ্ছে।  
তারা আরো জানান, তার লিস্টের বাইরে কোনো কর্মহীন দুস্থ লোক ত্রাণ চাইতে গেলে মারধর, গালি-গালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। এসব দেখে অন্যরা যেনো তার কাছে ত্রাণ চাইতে না আসে । মংলা ও রানী দুজনেই ত্রাণ নিতে গিয়ে লাঞ্চনার স্বীকার হয়। কাউন্সিলর অফিস থেকে তারা কাঁদতে কাঁদতে মোড়ের ওপর বসেছিলো। পরে আমরা তাদের বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘তাদের অভিযোগ মিথ্যে। আপনাদের কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে। এসব আমাকে আমার প্রতিপক্ষ কিছু মানুষ বদনাম করার জন্য এসব অপপ্রচার করছে। কাউন্সিলরের কথার প্রেক্ষিতে তার সামনেই মংলাকে কল করা হলে লাউডে তিনি সেই অভিযোগই করেন যা তার সাথে ঘটেছিলো। তারপর কাউন্সিলর সেটা মিথ্যা কথা বলছে বলে মন্তব্য করেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares