যশোরে আগাম শীতকালিন সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

আবেদ হোসাইন, যশোর প্রতিনিধি : যশোরে আগাম শীতকালিন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। নানা রকমের সবজি বাজারজাতে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দামও বেশি পাওয়ায় চাষিদের মুখে অমলীন হাসি। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশ বিদেশে।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, দেশের সবজির একটি বড় অংশ উৎপাদিত হয় যশোরে।  গ্রীষ্মকালিন, আগাম শীতকালিন ও শীতকালিন এই তিন ভাগে বারো মাস সবজির চাষ হয়ে থাকে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয় যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে।
নতুন করে বাঘারপাড়া ও মণিরামপুরের কিছু এলাকা যোগ হয়েছে। এবার যশোর সদর উপজেলায় আগাম শীতকালিন আগাম সবজির চাষ হয়েছে ২৮শ’ হেক্টর। এরমধ্যে সবজি খ্যাত হৈবতপুর ইউনিয়নে ১৩শ’ ২৮ হেক্টর, চুড়ামনকাটি  ইউনিয়নে ৪শ’ ২৫ হেক্টর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে ২শ’ ৮৩ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালিন সবজির চাষ হয়েছে। এই এলাকার সবজির সুনামের পাশাপাশি ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন  স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুড়ামনকাঠি, আব্দুলপুর ছাতিয়ানতলা, শানতলা, নুরপুর, বাগডাঙ্গা, দোগাছিয়া, সাজিয়ালী, শ্যামনগর ও কমলাপুরস হৈবতপুর, তীরেরহাট, মানিকদিহি, মথুরাপুর, শাহাবাজপুর, মুরাদগড়, কাশিমপুর, বিজয়নগর, দৌলতদিহি, বালিয়াঘাট, ললিতাদাহ, বালিয়াডাঙ্গা, বেনেয়ালী, ডহেরপাড়া, লাউখালী, নাটুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন মাঠ  আগাম শীতকালিন সবজিতে ভরা। যেদিকে দৃষ্টি যায় সেদিকেই দেখা মিলছে নানা প্রকারের সবজি ক্ষেতের।
এর মধ্যে সিম মুলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন,পটল, উল্লেখযোগ্য। সবজি চাষি শফিকুল ইসলাম, মন্টু মিয়া, মনিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, ফয়জুল ইসলাম,  আতিকুর রহমান, জয়নাল আবেদীন জানান, এবারের মৌসুমে সব ধরণের সবজিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য বেশি থাকায় তারা প্রতিদিনই সবজি বাজারজাত করছেন।
যশোর কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, যশোর সবজির জেলা হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। এখানকার সবজির সুনাম অনেক । স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশ বিদেশের বাজারে। দুটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সবজি বিদেশ যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares