মানবসেবায় ছুটে চলা এমপি শাওন’র গল্প

সালাম সেন্টু,লালমোহন প্রতিনিধি:

জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের সেবা করবেন, জনগণের সুখে দু:খে পাশে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা প্রায়েই দেখতে পাই, জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের সেবায় নিজের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করেন। সেক্ষেত্রে প্রায়ই সেবা বঞ্চিত হয় জনতা। সাধারণ মানুষ তাদের অভিযোগ বা কোন চাওয়া সরাসরি তাদের অভিভাবকের কাছে তুলে ধরতে চাইলেও জনপ্রতিনিধিদের বডিগার্ড বা তার নেতাকর্মীদের জন্য কাছেই ঘেষতে পারেন না। তাই জনসাধারণের একটা চাওয়া থাকে, আশা থাকে যে জনপ্রতিনিধি বা তাদের অভিভাবক যদি সরাসরি জনগণের কাছে আসে, তার সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পায় তাহলেই জনগণ তাদের ন্যায্য সেবা পাবে।

আজ এমনই একজন জনপ্রতিনিধির গল্প বলছি, যিনি মুখ দেখে বা ‍উঁচু নিচু জাত পাত দেখে নয় বরং মানুষ ভেবেই সকলের কথা কান পেতে শুনেন। যাকে সাধারণ মানুষ স্যার নয় বেশিরভাগই ভাই বলে সম্মোধণ করে কাছে ঘেঁষে নিজের সমস্যার কথা জানাতে পারে। আর মানুষের সমস্যা বা দু:খকে নিজের মনে করে অনুধাবণ করে তা সমাধানের চেষ্টা করেন।

আমার এতটুকু বয়সে সর্বপ্রথম জানা যে, একজন সংসদ সদস্য হয়েও বর্তমান এ করোনার প্রভাবে ঘরবন্দি মানুষের সেবায় নিজের জমি বিক্রি করে মানুষের সেবায় তা অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছেন।

হ্যাঁ আজ লালমোহন তজুমদ্দিনের সাধারণ মানুষের ভালবাসা ও আস্থার প্রতিক এক শা্ওনের গল্প বলছি। যিনি তার এলাকার জনসাধারণের দু:খ লাগবে সর্বদা তাদের দ্বারে হাজির থাকেন তিনি হলেন দ্বীপজেলার দ্বীপবন্ধু ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

এ আসন থেকে পরপর তিনবার বিজয়ী সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। তাঁর সংসদ সদস্য হওয়ার ১১বছর পূরণ হল সদ্য। এ ১১ বছরে মানুষের ভালবাসা অর্জনে তিনি যা করেছেন আজকের লেখায় তা তুলে না ধরে শুধু বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের এ সময়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য করা এমপি শাওনের কর্মের আংশিক কিছু তুলে ধরলাম।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আমাদের বাংলাদেশে এখনো শুরু হয়নি। তবে দেশবাসীকে বাঁচাতে আগে থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

ঠিক ওই সময়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষকে সচেতনতার মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখতে ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধূরী শাওন। শুরু হয় এলাকার মানুষকে সচেতন রাখার সার্বিক কার্যক্রম। প্রতিদিনই লালমোহন তজুমদ্দিনের আনাচে কানাচে ছুটে চলছেন তিনি। নিজেই মাইকে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করলেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক তুলে দিলেন। স্ব-শরীরে বিভিন্ন বাজারঘাট পরিদর্শন পূর্বক সাধারণ মানুষকে গণজমায়েত এড়াতে লালমোহন-তজুমদ্দিনের বাজারের কাঁচা বাজার খোলা মাঠে সরিয়ে দিয়ে সমযোপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করতে লাগলেন। লালমোহন-তজুমদ্দিনের বিভিন্ন স্থানে জীবাণূনাশক স্প্রে, পরিস্কার পরিছন্নতা কার্যক্রম গ্রহন করেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ঘুরে ঘুরে ওইসব এলাকার সরকারি বিভিন্ন সুবিধা যেমন, ভিজিডি ভিজিএফসহ সকল সুবিধাভোগীদের ন্যায্য পা্ওনা নিশ্চিত করলেন। দেশে সর্বপ্রথম সরকারি সাহায্য সহযোগিতা জনগণের মাঝে সুষ্ঠ ও সঠিক বণ্টনের জন্য জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ডিলারদের শপথ পড়ান তিনি।
কিছুদিন আগে সংবাদ পান ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাদাপুল এলাকায় এক মুড়ির মিলে সরকারি চাল দিয়ে মুড়ি ভাঁজা হচ্ছে। সাথে সাথেই ছুটে গেলেন। প্রশাসন কে খবর দিয়ে গেলেও সকলের আগে ওখানে উপস্থিত তিনি। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে দেখা মিলল সরকারি চালের পুরোনো বস্তায় মুড়ির চাল রেখেছে মিল মালিক। যে বস্তাগুলো বাজার থেকে কিনেছিল বলেও জানায় মিল মালিক। তবুও মিল মালিককে সতর্ক করে দিয়ে সরকারি বস্তা ব্যবহারে নিয়ম মানার নির্দেশ দেন এমপি শাওন।

ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূত হয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্ক না হয়ে সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারের নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকার আহবান জানিয়ে প্রচারাভিযান শুর করেন। পাশাপাশি ঘরে থাকা মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করতে নিজেই খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটতে লাগলেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। কেউ যাতে না খেয়ে থাকে তা নিশ্চিত করতে হটলাইন চালু করলেন। এভাবেই করোনা ভাইরাসের এ মহামারী মধ্যকার দিনগুলো কাটছে এমপি শা্ওনের।

খুঁজে খুঁজে এত ত্রাণ সামগ্রী ও সাহায্য সহযোগিতার পরও কিছুদিন আগে ত্রাণের খাবার শেষ ও শিশুর অভূক্ততার কথা জানিয়ে মধ্যরাতে এমপি শাওনের মুঠোফোনে কল দেন লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের এক অসহায় মা। তার কথা শুনেই গাড়িতে শিশুর জন্য দুধসহ খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুঁটে গেলেন এমপি শাওন। তাদের হাতে তুলে দিলেন খাদ্য সামগ্রীসহ নগদ টাকা। এসময় একই বাড়ির প্রতিবন্ধি একজনকেসহ তিনজনকে নগদ ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি। ক্লান্ত শরীর তবুও অভূক্ত ওই পরিবারের হাতে খাবার তুলে দিতে পেরে যেন নিজেই স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললেন দ্বীপবন্ধু।

তেমনী গতকাল শনিবার গভীর রাতে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে এমপি শাওনের মুঠোফোনে কল দেন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকার এক মাদ্রাসা শিক্ষক। শিক্ষকের অসহায়ত্বের কথা শুনেই মানবতার ডাকে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে রাতেই খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ওই বাড়ির উদ্দেশ্য পাড়ি জমান এমপি শাওন। গাড়ীতে তুলে নেন ৩০ কেজি চাল, ২ কেজি ছোলা, ১কেজি মুড়ি, ২ কেজি চিনি, ২ কেজি চিড়া ও ২কেজি খেজুর।

গাড়ী গিয়ে থামে আজাহার রোডের জলিল সিকদার বাড়ীতে। খাদ্য সামগ্রী হাতে তুলে ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের ঘরের দুয়ারে হাজির হন দ্বীপবন্ধু এমপি শাওন। দরজা খুলে এমপি শাওন কে দেখে খুশিতে দু চোঁখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে ওই শিক্ষকের। হাত আল্লাহর দরবারে তুলে প্রাণ ভরে দোয়া করেন লালমোহন তজুমদ্দিনের পাঁচ লক্ষ মানুষের অভিভাবকের জন্য। এ সময় মাদ্রাসা শিক্ষকের হাতে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেন এমপি শাওন। এভাবে যখন যেখানেই কারো অভূক্ততা বা সমস্যার কথা শুনছেন, তা সমাধানে ছুটে চলছেন আপন গতিতে…………. চলবে…………………….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares