ভালো ফলনের আশায় আমন ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত হাকিমপুরের কৃষকেরা  

গোলাম রব্বানী, হিলি: খাদ্য শস্য পণ্যের ভরপুর উত্তরের জেলা দিনাজপুর। এই জেলার কৃষকদের একমাত্র ধান চাষই ভরসা। তাই সব প্রতিবন্ধকতা কেটে উঠে এখন আমন ধান ক্ষেতে সার ছিটানো, আগাছা পরিষ্কার ও কীটনাশক দেওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার হাকিমপুর উপজেলার  কৃষকেরা। প্রথমের দিকে আকাশের বৃষ্টি না থাকায় গভীর নলকূপ ও ডিপ টিউবওয়েল থেকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে আমান ধানের চারা রোপণ করেছে কৃষকরা। বর্তমানে আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় ক্ষতি কাটিয়ে ভালোফলন পাবে বলে আশা কৃষকদের।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলার ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন কৃষকরা।
বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলার হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে সবুজের সমাহার। ধান গাছ গামর হয়ে উঠেছে। আর ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই গাছে শীষ বের হবে। আর তাই ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকেরা ক্ষেতে ইউরিয়া সার বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ২০ কেজি ছিটানোর কাজ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তারা ক্ষেতের আগাছা দমন এবং পোকাদমনের জন্য কীটনাশক স্প্রে করছেন।
চলতি আমন মৌসুমে শুরুর দিকে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় জমিতে ধানের চারা রোপনের কিছুটা বিলম্ব হয়েছে কৃষকদের। পানি সেচে অতিরিক্ত অর্থ খরচও হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে জমিতে পানি সেচ দিয়ে অনেক কৃষক ধানের চারা রোপণ করেছেন। বর্তমান প্রতিটি জমিতে পর্যাপ্ত বর্ষার পানি রয়েছে। এবার আমন চাষে খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে দাবি কৃষকদের।
হাকিমপুর উপজেলার খট্টা-উচনা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার আমি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। জমিতে আগাছা দমন, কীটনাশক স্প্রেসহ সার ছিটাচ্ছি। গতবার ৮০০ টাকা দরে ইউরিয়া সারের বস্তা কিনেছিলাম। এখন সেই বস্তার দাম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। যারফলে খরচ তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে কৃষকরা। তবে আমন ধানের দাম ভালো পেলে বাম্পার ফলনে ক্ষতি কেটে উঠতে পারবে বলে আশা তাদের।
উপজেলার আলিহাট ইউনিয়ন এর কোকতাড়া গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আল্লাহ দিলে জমিতে ধানের ফলন ভালোই হয়ছে। প্রায় ৪-৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া যদি ভালো থাকে বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান ঘরে নেওয়ার আশা করছি। অল্প জায়গা তাই নিজেই সব কাজ করি, তাতে পোষাই ভাল। বাজারে সব জিনিসপাতির দাম অনেক বেশি। তাই এবার আমন চাষে খরচ একটু বেশি গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবুও চাষ করছি, তা না হলে খাবো কি?
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড.মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি আমন মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ৮ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। মাঠে ফলন অনেক ভালো দেখা যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের সব ধরনের কৃষি পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছি।
অন্যদিকে দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুজ্জামান বলেন, এবারের মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা আমন ধান চাষ করেছেন। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। জেলার অনেক জায়গায় আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে আশা করছি কৃষকেরা তাদের কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares