ভয়কালীন নামায কি

দৈনিক সকালের ডাক

যখন কোন শত্রুর সম্মুখীন হইতে হয়, শত্রু চাই মানুষ হউক কিংবা হিংস্র জন্তু অথবা অজগর ইত্যাদি হউক, এমতাবস্থায় যদি সকল মুসলমান কিংবা কিছু সংখ্যক কিংবা হিংস্র জন্তু অথবা অজগর নামায পড়িতে না পারে এবং সওয়ারী হইতে অবতরণের অবসর না পায়, তবে সকলেই সওয়ারীর উপর বসিয়া বসিয়া ইশারায় একা একা নামায পড়িয়া লইবে, তখন ক্বেবলামুখী হওয়াও শর্ত নহে, অবশ্য যদি দুইজন একই সওয়ারীতে বসা থাকে, তবে তাহারা উভয়ে জমা’আত করিবে। আর যদি এতটুকুরও অবকাশ না হয়, তবে মা’যূর। তখন নামায পড়িবে না, অবস্থা শান্ত হওয়ার পর ক্বাযা পড়িয়া লইবে। আর যদি সম্ভব হয় যে, কয়েকজন মিলিয়া জমা’আতে নামায পড়িতে পারে, যদিও সকলে মিলিয়া পারে না, তবে এমতাবস্থায় তাহাদের জমা’আত ছাড়িয়া দেওয়া উচিত নহে। ছালাতুল খাওফের নিয়মানুযায়ী নামায পড়িবে, অর্থাৎ সকল মুসলমানকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হইবে, একভাগ শত্রুর সাথে অবস্থান করিবে আর অপর ভাগ ইমামের সাথে নামায শুরু করিবে, যদি তিন কিংবা চারি রাকা’আত বিশিষ্ট নামায হয়, যেমন যোহর, আছর মাগরিব ও এশা। যদি ইহারা মুসাফির না হয়, এবং ক্বছর না করে, তবে যখন ইমাম দুই রাকা’আত নামায পড়িয়া তৃতীয় রাকা’আতের জন্য দাঁড়াইবে, আর যদি ইহারা ক্বছর করে কিংবা দুই রাকা’আত বিশিষ্ট নামায হয়, যেমন ফজর, জুমু’আ, ঈদের নামায কিংবা মুসাফিরের যোহর, আছর ও এশার নামায, তবে এক রাকা’আতের পরই এই ভাগ চলিয়া যাইবে এবং দ্বিতীয় দল সেখান হইতে আসিয়া ইমামের সাথে নামায পড়িবে, তাহাদের জন্য অপেক্ষা করা ইমামের উচিত। ইমাম যখন বাকী নামায পুরা করিবেন, তখন সালাম ফিরাইবেন, আর ইহারা ছালাম না ফিরাইয়া শত্রু-সম্মুখে চলিয়া যাইবে এবং প্রথম দল এখানে আসিয়া নিজেদের বাকী নামায কেরাআত ব্যতীত শেষ করিবে এবং সালাম ফিরাইবে। কেননা, ইহারা লাহেক্ব। অতঃপর ইহারা শত্রুদের সম্মুখে চলিয়া যাইবে, দ্বিতীয় দল এখানে আসিয়া নিজেদের নামায কেরাআত সহকারে আদায় করিবে এবং সালাম ফিরাইবে; কেননা, ইহারা মসবুক।

১।মাসআলাঃ ছালাতুল খওফের মধ্যে নামাযের নিয়্যত বাঁধা অবস্থায় যাতায়াকতালে পায়ে হাঁটিয়া যাতায়াত করিতে হইবে; (কথাবার্তা বলা যাইবে না।) যদি কেহ ঘোড়ার উপর সওয়ার হইয়া যাতায়াত করে (বা কথাবার্তা বলে বা যুদ্ধ করে) তবে তাহার নামায টুটিয়া যাইবে। কেননা, ইহা আমলে কাছীর।

(মাসআলাঃ যদি শত্রু পূর্ব দিক দিয়া আসে এবং সেই কারণে পূর্বদিকে মুখ করিতে হয় বা শত্রুর সম্মুখীন হইয়া দাঁড়াইতে হয়, তবে তাহাতে নামায টুটিবে না, কিন্তু বিনা প্রয়োজনে ক্বেবলা হইতে বুক ফিরাইলে নামায টুটিয়া যাইবে।)

২।মাসআলাঃ ইমামের সাথে বাকী নামায পড়িয়া দ্বিতীয় দলের চলিয়া যাওয়া এবং প্রথম দল আবার এখানে আসিয়া নিজেদের নামায পুরা করা, তারপর দ্বিতীয় দলের এখানে আসিয়া নামায সম্পন্ন করা মোস্তাহাব এবং উত্তম; নতুবা ইহাও জায়েয আছে যে, প্রথম দল নামায পড়িয়া চলিয়া যাইবে এবং দ্বিতীয় দল ইমামের সাথে বাকী নামায পড়িয়া নিজেদের নামায সেখানেই শেষ করার পর শত্রুর সম্মুখে যাইবে, এই দল যখন সেখানে পৌঁছিবে, তখন প্রথম দল নিজেদের নামায সেখানেই পড়িয়া লইবে, এখানে আসিবে না।

৩।মাসআলাঃ নামায পড়ার এই নিয়ম ঐ সময় প্রজোয্য হইবে, যখন সকলে একই ইমামের পিছনে নামায পড়িতে চায়, যেমন দলে কোন বুযুর্গ লোক আছেন সকলেই তাঁহার পিছনে নামায পড়িতে চায়। নতুবা এই পন্থাই ভাল যে, একদল এক ইমামের পিছনে নিজেদের নামায শেষ করিয়া দুশমনের সম্মুখে যাইবে, দ্বিতীয় দল অন্য একজনকে ইমাম বানাইয়া পুরা নামায পড়িয়া লইবে।

৪।মাসআলাঃ যদি শত্রু নিকটবর্তী মনে করিয়া এই নিয়মে নামায পড়া হয় এবং পরে দেখা যায় যে, পূর্বের ধারণা ভুল ছিল, শত্রু নিকটবর্তী হয় নাই, তবে ইমাম ব্যতীত অন্যান্য সকলের নামায দোহরাইয়া পড়িতে হইবে। কেননা, অনুমোদিত কারণে আমলে কাছীর করিলে নামায ফাসেদ হয়।

৫।মাসআলাঃ না-জায়েয যুদ্ধে এ ধরণের নামায পড়ার অনুমতি নাই। যেমন, বিদ্রোহীরা মুসলমান বাদশাহর উপর আক্রমণ করিলে কিংবা পার্থিব কোন না-জায়েয উদ্দেশ্যে কাহারও সহিত যুদ্ধ করিলে এইরূপ আমলে কাছীর মাফ হইবে না।

৬।মাসআলাঃ ক্বেবলার বিপরীত দিকে নামায পড়িতেছিল ইত্যবসরে শত্রু পলায়ন করিল, তবে তৎক্ষণাৎ ক্বেবলার দিকে মুখ করিবে, নতুবা নামায হইবে না।

৭।মাসআলাঃ নির্বিঘ্নে ক্বেবলামুখী হইয়া নামায পড়িতেছিল, এমতাবস্থায় শত্রুর আবির্ভাব হইল, তৎক্ষণাৎ তাহাদের শত্রুমুখী হওয়া জায়েয আছে, ঐ সময় ক্বেবলামুখী হওয়া শর্ত থাকিবে না।

৮।মাসআলাঃ (নৌকা বা জাহাজ ডুবিয়া গেলে) সন্তরণকালে যদি নামাযের ওয়াক্ত যাইবার মত হয় এবং কিছুকাল (বয়া, বাঁশ ও তক্তা ইত্যাদির সাহায্যে) হাত পা সঞ্চালন বন্ধ রাখিতে পারে, তবে ইশারা দ্বারা নামায পড়িয়া লইবে, তবুও নামায ছাড়িবে না। আর যদি এইরূপ সম্ভব না হয়, তবে ঐ ওয়াক্তের নামায পরবর্তী সময়ের জন্য রাখিয়া দিবে।

এই পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং তৎসম্পর্কীয় বিষয়ের আলোচনা হইল, এখন জুমু’আর বর্ণনা লেখা হইতেছে। কেননা জুমু’আ ইসলামের অতি বড় একটি রোকন, কাজেই ঈদের নামাযের পূর্বেই লেখা হইতেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares