বাউফলে নির্দোষ যুবককে অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনে পিটিয়ে জখম ও টাকা আদায়     

নিজস্ব প্রতিবেদক  

বাউফলের চন্দ্রদ্বীপে নির্দোষ যুবককে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চাচির সাথে পরকিয়ার অপবাদ দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনেছেন দফাদার কবির ও দুর্বৃত্তরা ।পরে বাইক থেকে নামিয়েই দফাদারের সামনেই দূর সম্পর্কের চাচা মোতালেব, আব্বাস,জুবায়ের ও তাদের সাঙ্গ পাঙ্গরা মিলে পিটিয়ে আহত করে যুবক সুমনকে (৩২)।
এতে সুমনের কপাল,দুই হাত ও পিঠ জখম হয়।সুমন এখনো বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ১০ জুন উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে।
দুর্বৃত্তরা ৯ নং ওয়ার্ডের আল আমিন বেপারির বসত ঘরের ভেতর থেকে জোর পূর্বক টেনে হেচরে নিয়ে যায় ৫ নং ওয়ার্ডে। সেই সময় আল আমিন বেপারির পরিবার তার ছোট ছেলে মৃত্যুর শোকাহত মূহুর্তে ছিল।এমতাবস্থায় তাদের পরিবার শোকাহত ও মর্মাহত থাকায় কোন প্রতিবাদ করেনি।
সুমন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার গাগুরিয়া নামক স্থানের বাসিন্দা।খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে স্থানীয় সাংসদ পংকজ দেবনাথের একনিষ্ঠ কর্মী। তার বাবাও স্থানীয় আ’লীগ নেতা।
ঘটাস্থলে যাওয়া সংবাদকর্মী জখমের ছবি তুলতে গেলে অভিযুক্ত মোতালেব ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা বাধা দেয়।এ ঘটনাই মোতালেবের স্ত্রীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও বাধা দেয় চৌকিদার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগী আলম সিকদার।
সুমনকে পাশের বাড়িতে ডেকে নিয়ে লাথি ও চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি নিয়ে মোবাইলে রেকর্ড করেন বাবু নামের এক ব্যক্তি। সে সুমনকে লাথি ও ভয় ভিতি দেখিয়ে বলে সবার সামনে তুই বলবি এ ঘটনায় আমি জড়িত, এটা বললেই ছাড়া পাবি নইলে না বললেন সুমন।
এরপর আলম সিকদার ইউপি চেয়ারম্যান আলকাছ মোল্লার সাথে কথা বলে মীমাংসায় বসেন।
বিচারে ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি আমির আলিকে ডাকা হলেও এই ঘটনা মিথ্যা ও মোতালেব এবং তার স্ত্রীর পূর্বের অপকর্মের কথা জেনে তিনি আর আসেনি।
বিচারের সময় আলম সিকদার বলেন মহিলার দুইটা বাচ্ছা আছে সে মোতালেবের সাথে ঘর সংসার করতে চায়।তাছাড়া কেউ তাদেরকে অপরাধ করতে দেখেনি তাই ছেলেকে তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে দিয়ে দিবো আর মহিলার মা ও বোন এসেছে তারা তাকে নিয়ে যাবে, সে সংশোধন হয়ে আসলে স্বামী মোতালেব তাকে মেনে নিবে।
এরপর বিচারের শেষে সুমনের আত্মীয়দের কাছ থেকে ২০০০০( বিশ হাজার) টাকা নিয়ে ভাগ ভাটোয়ারা করেন আলম সিকদার, ইউপি সদস্য রহিম ব্যাপারি, ফারুক চৌকিদার, যুবলীগ সভাপতি আলমগীর সরদার ও দফাদার কবিরসহ অন্যরা।
এ ঘটনায় সুমন বলেন আমি ও মোতালেব একসাথে ব্যবসা করতাম তার কাছে আমি লাখ দেড়েক টাকাও পাবো।পাওনা টাকা চাওয়াতেই সে তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ তোলে, তার অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কারণ তার স্ত্রী সম্পর্কে আমার দূর সম্পর্কের চাচি হয়।
ইতোপূর্বে আরও তিনজন স্থানীয় যুবকের সাথেও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ আনেন মোতালেব। সেসব ঘটনাও চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিমাংসা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান আলকাছ মোল্লাকে জানালে তিনি বলেন ঘটনাটি আমি জানিনা তবে নিয়ে আসার পরে দফাদার আমাকে বলেছে তাই আমি ইউপি সদস্যদের দিয়ে মীমাংসা করে দিতে বলেছি।সত্য মিথ্যা না জেনে বাড়ি থেকে নির্দোষ কাউকে ধরে এনে পিটিয়ে জখম ও বিচারের নামে প্রহসন চলে কিনা বললে কথা না বাড়িয়ে চেয়ারম্যান মোবাইলের লাইন কেটে দেন। চলবে…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares