বগুড়ার শেরপুরে ২ ইউনিয়নে ৪ বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপক প্রচারণা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:


২য় ধাপে ১১ নভেম্বর বগুড়ার শেরপুরের ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আ.লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিক নিয়ে, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী(স্বতন্ত্র), বিএনপির পক্ষ থেকে সরাসরি ভোটে অংশ গ্রহন না করলেও বিএনপি সমর্থিত বা কোথাও আবার পোস্টেট নেতারাও (স্বতন্ত্র), জামায়াত সর্থমিত(স্বতন্ত্র), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল সমর্থিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহন করেছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচার-প্রচারণা। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নৌকা প্রতিক উপহার দেয়ায় স্ব-স্ব প্রার্থীরা মনোয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। শেরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২টিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিপক্ষে ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মনোনীত (নৌকা প্রতিক) প্রার্থীর সাথে সাথে আ.লীগ বিদ্রোহীরা নির্বাচনী মাঠে থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আবার প্রার্থী বাচাই ও তৃণমূল জরিপে অসংগতি থাকায় আ.লীগ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অনেক ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী, স্বতন্ত্র (বিএনপি সমথিত) প্রার্থীর পক্ষেও গোপন প্রচারণাও চলছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে নির্বাচনী মাঠে। এদিকে দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে বিদ্রোহীরা মাঠে থাকায় অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। ফলে জয়ের আশা নিয়ে শঙ্কিত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীরাও।
জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে অনেক নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও মূলত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর ভূমিকায় আছেন।
শেরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর ৯টিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন (নৌকা প্রতিক) নিয়ে ৯জন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তবে ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী(নৌকা)র বিপক্ষে ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ গরম করে যাচ্ছেন।
খানপুর ইউনিয়নে আ.লীগ মনোনীত(নৌকা প্রতিক) পেয়েছেন পরিমল দত্ত, সেক্ষেত্রে নৌকা প্রতিক চেয়ে ব্যর্থ হয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনি উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
বিশালপুর ইউনিয়নে আওমীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শাজাহান আলী(সাজা), তার বিপক্ষে বিদ্রোহী হিসেবে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান এস এম রাফিউল ইসলাম লাবু ও আ.লীগ মনোনয়ন বঞ্চিত সুধান্য চন্দ্র(তিনি আ.লীগ মনোনীত প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবোধ চন্দ্রের ছোট ভাই) এবং ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক নেতা একই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান। তবে জাকির হোসেন আ.লীগের দলীয় মনোনয়ন চাননি বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যারা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাই-কমান্ডকে অবগত করা হবে।
কেএ/জু আ/মিন্টু ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares