প্রেমিকাকে ধর্ষণ করলো প্রেমিক ও তার বন্ধু 

আটোয়ারী (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা: পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে প্রেমিক সহ তার বন্ধুর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক স্কুলছাত্রী (১৬)।
শনিবার রাতে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা বন্দরপাড়ায় একটি জঙ্গলের নির্জন এলাকায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
রোববার (৭আগস্ট) বিকেলে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কথিত প্রেমিক হাসান (২৫), তার বন্ধু রাজু, সাইফুল সহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে আটোয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঐদিন সন্ধ্যায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ রাজু (২৮) ও সাইফুল ইসলাম (৪৮) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে আটোয়ারী থানা পুলিশ। আজ সোমবার সকালে তাদেরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মোঃ রাজু উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের মালগোবা গ্রামের মোঃ সামিজুলের পুত্র এবং সাইফুল ইসলাম একই ইউনিয়নের পুরাতন আটোয়ারীর গিয়াসউদ্দিন পুত্র। ঘটনার পর থেকে বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং তদন্তের স্বার্থে বাকি ধর্ষকদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না এই প্রতিবেদনে।
ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সে গত শনিবার (৬ আগস্ট) পঞ্চগড় সদরের গোয়ালপাড়াস্থ তার নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে।
মামলার এজাহার ও স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনে রং নাম্বারের পরিচয়ের সূত্র ধরে মোঃ হাসান এর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকের বাড়ি আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের মালগোবা গ্রামে। যেদিন স্কুলছাত্রীটি তার নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে, সেদিনেই কথিত প্রেমিক হাসান মোবাইল ফোনে তাকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সদরের গোয়ালপাড়া এলাকায় ডেকে আনেন। পরে তাকে নিয়ে হাসান তার বন্ধু মোঃ রাজু সহ মোটরসাইকেলে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেন। এক পর্যায়ে তাকে ফুঁসলিয়ে রাত ৮টার ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা বন্দরপাড়া এলাকায় একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যান। সেখানে প্রেমিক তাকে ধর্ষণ করে। এরপর হাসানের বন্ধু রাজুও ধর্ষণ করলে মেয়েটির সাথে তাদের ঝগড়া শুরু হয়।
এসময় স্থানীয় আরো পাঁচ জন সেখানে চলে আসে। এরপর বেগতিক অবস্থা দেখে হাসান ও রাজু মেয়েটিকে রেখে পালিয়ে যান। পরে ওই পাঁচজনের কাছে সাহায্য চাইলে তারা স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।
সঙ্গাহীন অবস্থায় পড়ে থাকা ধর্ষিতা জ্ঞান ফিরে এলে চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে রাত প্রায় একটার দিকে স্থানীয় আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে আরেক প্রতিবেশীর সহায়তায় মেয়েটির নানা বাড়িতে খবর দেন। পরিবারের লোকজন রাত আড়াইটার দিকে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি জানার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে আমাদের অভিযান শুরু হয়। রোববার সন্ধ্যার দিকে মামলার এজাহারভুক্ত দু’জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয় এবং সোমবার সকালে গ্রেফতারকৃত দু’জনকে আদালতে হাজির করা হয়।বাকি আসামিদের ধরতে রাতভর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দলের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares