নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক

করোনাভাইরাসে সারাদেশে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুই হাজার ৬৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৬ জনে পৌঁছল। একই সঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৪৬ জনের মৃত্যু হলো। তবে গতকাল আরও ৫২১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮০৪ জন সুস্থ হয়েছেন।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ৫০টি ল্যাবরেটরিতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯০৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৪৮৬টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো তিন লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১টি। নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল ও রেফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল। পুরোনো পরীক্ষাগারের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে কারিগরি ত্রুটির কারণে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া গত চব্বিশ ঘণ্টায় জীবাণমুক্তকরণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নমুনা পরীক্ষাগার বন্ধ ছিল।

মৃতদের বিষয়ে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের ২৮ জন পুরুষ এবং সাতজন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২০ জন, চট্টগ্রামে আটজন, সিলেটে দু’জন, রাজশাহীতে তিনজন এবং বরিশাল বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জন মারা গেছেন হাসপাতালে, নয়জন বাড়িতে এবং হাসপাতালে আনার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতদের মধ্যে ৮১-৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে দু’জন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে তিনজন, ১১-২০ বছরের দু’জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ১০ শতাংশ। লিঙ্গভেদে শনাক্তের হিসাবে ৭১ শতাংশ পুরুষ এবং ২৯ শতাংশ নারী। এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ৭৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং নারী ২২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৩১৪ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন সাত হাজার ১৬২ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯৮ জন। সারাদেশে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট রয়েছে ১০৬টি।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়ে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের মেডিকেল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। করোনায় বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকায় ৬০ বছরের বেশি বয়সীদেরও মেডিকেল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেককেই মাস্ক পরতে হবে। বাসায় তৈরি তিন স্তরবিশিষ্ট কাপড়ের তৈরি মাস্ক ব্যবহার করা যাবে। এই মাস্ক একবার ব্যবহার করার পর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফের ব্যবহার করা যাবে। নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, তবে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক একক কোনো পদ্ধতি নয়। পাশাপাশি বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং কমপক্ষে তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাস্ক, সাবান, তিন ফুট দূরত্ব- এ তিনটি বিষয় মিলেই করোনা প্রতিরোধ করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares