নওগাঁর মান্দায় উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রভাবশালীদের পুকুর খনন: মৎস্যজীবিদের বিরুদ্ধে উল্টো সংবাদ সম্মেলন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী: নওগাঁর মান্দা উপজেলার আন্দইল নামে একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে এক প্রভাবশালী মহল পুকুর খননের সময় উল্টো মৎস্যজীবিদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রভাবশালী উজ্জ্বল কুমার। তিনি উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সাঁটইল গ্রামের সূর্যকান্তের ছেলে। আন্দইল উন্মুক্ত জলাশয়টি উপজেলার ভারশোঁ ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মাঝে অবস্থিত।

জানা গেছে, আন্দইল উন্মুক্ত জলাশয়ের উপর নির্ভরশীল ভারশোঁ, শালদহ, পলাশবাড়ী ও রোয়াই গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মৎস্যজীবি পরিবার। এসব মৎস্যজীবিরা বছরের বেশির ভাগ সময় জলাশয় থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ার পর ২/৩ মাস কৃষিসহ অন্য কাজ করে তাদের সংসার চলে। প্রভাবশালী উজ্জ্বল কুমার গংরা মৎস্যজীবিদের উন্মুক্ত জলাশয়সহ ফসলি জমির প্রায় ৯০ বিঘা জমি দখল করে স্ক্যাবেটর দিয়ে পুকুর খনন করছেন। জলাশয়ের জমি দখল করে পুকুর খনন করা হলে মৎসজীবিদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। গত ২৪ এপ্রিল চারটি গ্রামের মৎস্যজীবীরা পুকুর খননে বাঁধা দিতে গেলে প্রভাবশালী উজ্জ্বল বাহিনীর উৎপল, পরিমল, বরুন, চঞ্চল ও সুজনসহ তাদের ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে হামলা চালিয়ে চারজন মৎস্যজীবিকে মারপিট করে গুরুত্বর আহত করে।

সংবাদ সম্মেলনে উজ্জ্বল কুমার বলেন, পুকুর খননের জন্য জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য ৩০ একর অনাবাদি জমি বন্ধক (লিজ) নিয়েছি। খাস জলাশয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে এমন গুজবে একটি মহল মৎস্যজীবিদের ভুল বুঝিয়ে আমার কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহহীন। ব্যক্তি মালিকানাধিন জমিতে অতীতেও বিলে একটি পুকুর খনন করেছি। নতুন করে যে পুকুর খনন করা হচ্ছে আমার প্রকল্প এলাকা থেকে খাস জলাশয়টি অনেক দূরে। তিনি বলেন, এবিষয়ে হাইকোর্টের একটি রায় আমার পক্ষে আছে। পুকুর খনন করা হলে অনেক লোকজনের কর্মসংস্থান হবে। নিজের এলাকার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অন্যান্য এলাকার মানুষের চাহিদা মেটানো সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বরুন বাক, কাজল, ইসরাফিল, সৈয়দ আলী, মাহাবুবসহ অন্যরা।

শালদহ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক নির্মল কুমার হালদার বলেন, সরকারের খাস খতিয়ান ভুক্ত আন্দইল বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে বর্ষা মৌসুমে মৎস্য আহরণ করে প্রায় কয়েকটি গ্রামের তিন হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এভাবে যদি উজ্জ্বল কুমার বিলের মাঝে বিশাল দীঘি খননের কাজ করতেই থাকে তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে মারা যাবো। তাই উন্মুক্ত জলাশয়টি উন্মুক্ত হিসেবেই রাখতে হবে। আমাদের দাবি কোন দীঘি খনন করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares