ধূমপানের দৃশ্য প্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: তথ্য সচিব

অনলাইন ডেস্ক: ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রচারিত নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজগুলোতে আইন লঙ্ঘন করে ধূমপানের দৃশ্য প্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন।

বুধবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে ‘চলচ্চিত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এবং দি ইউনিয়নের সহায়তায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মকবুল হোসেন।

সম্প্রতি জনপ্রিয়তা পাওয়া ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রচারিত নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজে আইন লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত ধূমপানের দৃশ্য প্রচার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, তামাকের পেছনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়তে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল’র সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, তামাক/ধূমপানের কোনো ভালো দিক নেই। সুতরাং, জাতির স্বার্থে আইন ও বিধি মেনে চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে রাষ্ট্রীয় আইন প্রতিপালনের পাশপাশি প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মানস সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্বা প্রফেসর ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, মানুষের আচরণগত পরিবর্তনে চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চলচ্চিত্রের চরিত্রের দ্বারা নেতিবাচক দৃশ্য প্রচার (বিশেষ করে ধূমপানের দৃশ্য) পরিহার করা উচিত। কেননা, ধূমপানের মাধ্যমেই অন্যতম সামাজিক সমস্যা মাদকাসক্তি শুরু হয়। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ ধূমপায়ী। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম যেন তামাক ও অন্যান্য নেশায় আসক্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। ওয়েব সিরিজের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বেশি বিধায় এগুলো আইনের আওতায় আনতে হবে। তরুণদের নেশার জগতে ধাবিত করার মহোৎসব থামাতে হবে।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এমনভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে যেন মানুষ ক্ষতিকর নেশায় আসক্ত না হয়। এর ক্ষতির দিক বেশি প্রচার করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য যুবদের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শনের জন্য তামাক কোম্পানির দ্বারা বিপুল অর্থ ব্যয় করার উদাহরণ রয়েছে। যা পরোক্ষভাবে তামাক কোম্পানির এক ধরনের প্রচারণা কৌশল। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি চলচ্চিত্রের ৮৯ শতাংশ চলচ্চিত্রে তামাকের ব্যবহার দেখানো হয়েছে। ৬৭ শতাংশ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রকে ধূমপান করতে দেখা গেছে। ৪১ শতাংশ চলচ্চিত্রে তামাকের ব্র্যান্ড দেখানো হয়েছে। আমাদের দেশেও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালে দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্র নির্মাণে তামাক কোম্পানি সহায়তা করে। এছাড়াও অসংখ্য চলচ্চিত্র, নাটক, ওয়েব সিরিজ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি লঙ্ঘনের ফলে বিতর্কিত।

মানস এর প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নুজহাত ইয়াসমীন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মুহ. সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, অভিনেত্রী নিপুন আক্তার, প্রত্যাশা’র সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, এইড ফাউন্ডেশন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী সমিতির প্রতিনিধিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares