দৌলতখানে সাবেক ইউপি সদস্য মহসিন ফরাজীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি:


ভোলার দৌলতখান উপজেলার ৯নং ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (৯নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য মোঃ মহসিন ফরাজী এর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকাল ভাতা, বিধবা ভাতা, রেশম কার্ড, ভিজিডি কার্ড ও জেলেদের চাউল আত্মসাতসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্যের ছেলে মোঃ বিল্লাল শারীরিক ভাবে সুস্থ এবং সচল। কিন্তু ইউপি সদস্য দুরস্ত অসহায় প্রতিবন্ধীদের না দিয়ে তার সুস্থ ছেলের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা ও তার দুই মেয়ের নামে মাতৃত্বকাল ভাতা ও রেশম কার্ড করে দেন ইউপি সদস্য মহসিন। এছাড়াও তার আত্মীয়স্বজনদের নামে। উল্লেখ্য তাদের মাতৃত্বকাল ভাতা ভোগ করার মতো কোনো সন্তান নেই।

ইউপি সদস্য মহসিনের বোনের ছেলে আনাচ, ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নয় কিন্তু পাচ্ছে রেশম কার্ড হতে শুরু করে সব কিছুর সুযোগসুবিধা।
প্রায় ৩৩ টি রেশম কার্ড এর ভিতরে ১৪ এর অধিক তার আপন ভাই, চাচতো ভাই, ভাইগ্না, ভাতিজা, চাচতো ভাই সহ আত্মীয়স্বজনদের ভিতরে। এ যেনো এক হরিরলুট।

জাহানারা বেগম ও অন্যরা জানান, রেশম কার্ড, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা করতে হলে প্রত্যেককে গুনতে হয় ৪০০০-৫০০০ হাজার টাকা। টাকা না দিলে হচ্ছে না সেই সব কার্ড। করার নাম দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। স্বজনপ্রীতিদের নামে রেশম কার্ড, জেলেদের চাউল সহ বিভিন্ন সহযোগিতা আত্মসাত করেছেন এই ইউপি সদস্য।

হামেলা খাতুন জানান, কোন অসহায় ও দুরস্ত পরিবার তার কাছে গেলে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ করে গায়ে হাত তুলে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিতেন সাবেক এই ইউপি সদস্য মহসিন। প্রায় প্রতিটি রেশম কার্ড, ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সব কিছু টাকা দিয়ে করতে হয়। জেলেদের চাউল সহ প্রায় সবকিছুতে তার দূর্নীতি।

ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও এলাকার তরুন, প্রবীণরা বলেন, দ্বিতীয় দাপে আমরা এই ইউপি সদস্য মহসিনকে চাই না। তার নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাই ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য মানবতার ফেরিওয়ালা জননেতা আলহাজ্ব আলী আজম মুকুল এমপি মহোদয়ের কাছে আমরা আশা করি, তিনি যেনো এই নির্বাচনে দলে অনুপ্রবেশ কারীদের জায়গা না দেয় এবং ত্যাগী আওয়ামীলীগ যেনো সঠিক জায়গায় মূল্যায়ন করে, আমরা সেই প্রত্যাশা করি।

উল্লেখ্য, ১২ মে ২০২০ ইং তারিখে জেলেদের চাউলের অনিয়ম পেলে সাংবাদিক তার কাছে বিষয়টি ক্লিয়ার ভাবে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিককে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায় সেই ইউপি সদস্য তাকে বিভিন্ন হুমকি দেন। এ নিয়ে সংবাদ মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিলো।

এবিষয় জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares