ঢালচরে আবাসন বঞ্চিত নদী ভাঙনের শিকার হাজারো মানুষ

আদিত্য জাহিদ,উপকূল প্রতিবেদক(ভোলা):

মেঘনার কড়াল গ্রাসে ঢালচর বাসিন্দাদের বাড়ি ঘর মেঘনার পেটে যাওয়ার একবছর পরও আবাসন ব্যবস্থা না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার । বর্তমানে অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে জেলে পরিবার গুলো। অনেকে তারুয়ার চরে আশ্রয় নিলে উপজেলা নিব্র্াহী কর্মকর্তা তাদের কে বনবিভাগের জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ অনেকে এমন তথ্য দিয়েছেন। 

বিগত বছর বর্ষা মৌসুমে ঢালচরের স্থায়ী স্থাপণা সহ বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর ভোলা ৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব,জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভুমি আশিষ কুমার ঢালচরে গিয়ে নদী ভাঙ্গুলী পরিবারদেরকে আবাসনের জন্য বনবিভাগের সংরক্ষিত বনের পার্শ্ববতী সাড়ে তিন হাজার পতিত জমি সনাক্ত করে বন্দোবস্ত দেওয়ার সিদ্বান্ত দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে তালিকা প্রনয়ন করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ নির্দেশ বাস্তবায়নে সহকারী কমিশনার ভুমি অফিস থেকে ফরম নিয়ে তালিকা প্রস্তুত করার আগেই তারুয়ার চরে তিন শতাধিক পরিবার কোনরকম মাথা গোজাঁর ঠাই নেয়। জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসিক সম্বন্বয় সভায় চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদারকে তাগিদ দেন।

এছাড়া ও দুর্যোগকালীন সময়ে জেলেদের আশ্রয় নেয়ার জন্য মাঝের চর খালটি খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করেন। এ সময় বনবিভাগের পক্ষে উক্ত জমি দাবী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন ঢালচর বনবিভাগ। যার ফলে থমকে যায় তারুয়ার চরে নদী ভাঙ্গুলী পরিবারদের আবাসন ব্যবস্থা ও খাল খনন। ইলিশ মৎস্য ঘাট খ্যাত ঢালচর নদী গর্ভে যাওয়ার ফলে কোন খাল না থাকায় হাজার হাজার জেলে দুর্যোগ কালীন আশ্রয় স্থল খাল হারিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন। 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা জানান, একটি মহল উক্ত জমি নিজেরা ভোগ দখলের পায়তারার অভিযোগ সহ বনবিভাগের মামলা জনিত কারনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভুমিকে তদন্দ পুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। জেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা জানান, তারুয়ায় সংরক্ষিদ বনের পার্শ্ববতী হওয়ার কারনে বালুর চরটি আমরাও দাবী করছি। ঢালচরের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার জানান, করোনা জনিত কারনে বিলম্বিত হওয়ায় তালিকা দাখিল করতে পারি নাই এবং তারুয়ার চরে আশ্রয় নেয়া পরিবার গুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ দেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares