জুমার নামাজের ফজিলত

দৈনিক সকালের ডাক

আল্লাহ তা’আলার নিকট নামাযের ন্যায় প্রিয় সামগ্রী আর নাই। এই জন্যই কোরআন-হাদীসে নামাযের জন্য যত তাকীদ আসিয়াছে, এত তাকীদ অন্য কোন এবাদতের জন্য নাই। এই নিমিত্তই জন্ম হইতে মৃত্যু পর্যন্ত; বরং জন্মের বহু পূর্ব হইতে মৃত্যুর বহু পর পর্যন্ত সেই রাহমানুর রাহীমের অসংখ্য নেয়ামত অজস্রভাবেই বন্দার উপর বর্ষিত হইতে থাকে, তাহার কিঞ্চিৎ শোকর আদায়ের জন্য দৈনিক পাঁচবার নামায সমাপন করা নির্ধারিত হইয়াছে।

সপ্তাহে সাতটি দিন তন্মধ্যে শুক্রবার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। কেননা, এই দিনেই সবচেয়ে বেশী নেয়ামত মানুষকে দান করা হইয়াছে। এমন কি, আদি মানব হযরত আদম আলাইহিসালামকেও এই দিনেই সৃষ্টি করা হইয়াছিল। কাজেই এই দিনে একটি বিশিষ্ট নামাযের হুকুম হইয়াছে।

জমা’আতের নামাযের উপকারিতা এবং ফযীলত পূর্বে বর্ণনা করা হইয়াছে এবং ইহাও বর্ণনা করা হইয়াছে যে, যতই অধিক সংখ্যক মুসলমান একত্র হইয়া নামায পড়িবে, ততই দুনিয়া ও আখেরাতের নেয়ামত অধিক হাছিল হইবে। কিন্তু দৈনিক পাঁচবার এক মহল্লার লোকগণ একত্র হইতে পারে, দূরবর্তী সমস্ত মহল্লার বা পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহের লোকগণ একত্র হওয়া কষ্টকর। এজন্যই আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছা হইল যে, বন্দাগণ সপ্তাহে এক দিন সকলে একত্র হইয়া খাছভাবে তাঁহার এবাদত বন্দেগী করুক। পূর্ববর্তী উম্মতগণকেও ঐ দিন এবাদত করার হুকুম দিয়াছিলেন।

কিন্তু তাহারা তাহাদের দুর্ভাগ্যের কারণে উহাতে মতভেদ করিল। এই অবাধ্যতার ফল এই দাঁড়াইল যে, এই মহান সৌভাগ্য হইতে মাহরূম রহিল এবং এই জুমু’আর ফযীলতও এই ‍উম্মতের ভাগে পড়িল। ইয়াহুদীগণ এই এবাদতের জন্য শনিবার ধার্য করিল এবং নাছারাগণ রবিবার ধার্য করিল।

কারণ, রবিবারে সৃষ্টি আরম্ভ হইয়াছিল এবং শনিবারে সমস্ত সৃষ্টিকার্য শেষ হইয়াছিল; (কিন্তু আল্লাহর মনঃপুত সর্বশ্রেষ্ঠ দিন তাহারা কেহই পাইল না। অবশেষে উম্মতে মোহাম্মদী যেহেতু সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত সেইহেতু তাহাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দিন অর্থাৎ শুক্রবার এবং সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত অর্থাৎ জুমু’আর নামায ধার্য হইল।

এই জন্যই যেখানে মুসলমানের গৌরব ও আধিপত্য আছে, সেখানে শুক্রবার দুনিয়াবি সব কাজ-কারবার বন্ধ রাখিয়া দূর-দূরান্তর হইতে সকলে সকাল সকাল গোসল করিয়া পরিষ্কার কাপড় পরিধান পূর্বক সুগন্ধি আতর লাগাইয়া জামে মসজিদে একত্র হইয়া খাছভাবে ঐ দিনটাকে আল্লাহর এবাদত-বন্দেগীতে অতিবাহিত করে।) পক্ষান্তরে যেখানে নাছারার আধিপত্য, সেখানে তাহারা রবিবারে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধ দেয় এবং ঐ দিনকে তাহারা পূণ্য দিন বলিয়া মনে করে। এই দিন কাজ কর্ম বন্ধ রাখিয়া এবাদতে মশগুল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares