জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল 

শাহরিয়ার মিল্টন,শেরপুর : নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের পশ্চিম শিমুলতলা গ্রামের দুদুয়ার খালের উপর গ্রায় ২ কিলোমিটারের মধ্যে নির্মিত সেতু দুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু দুটি দিয়ে পার হচ্ছে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ ২ ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার মানুষ।

সংস্কার করা না হলে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ওই সেতু দুটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঘবেড় ও নয়াবিল ইউনিয়নের বুক চিরে দুদুয়ার খাল বয়ে গেছে। ২০১০ সালে টিআর এর বরাদ্দ থেকে দুদুয়ার খালের উপর
দুই ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের জন্য সেতু দুটি নির্মাণ করেন। এরপর ৪-৫ বছর মানুষজন চলাচল করতে পারলেও গত কয়েক বছরের পাহাড়ি ঢলে সেতু দুটির দুই পাশের মাটি ধসে যাওয়ার কারণে খুঁটিগুলো দেবে যায়। খুঁটিগুলো দেবে যাওয়ার কারণে স্লিপারগুলোর ভেঙে পড়ে এবং ক্রস অ্যাঙ্গেলগুলো মরিচা ধরে সেতু দুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা স্লিপারের উপরে বাঁশ বেঁধে দিয়েছে। নড়বড়ে ও ভেঙে যাওয়া সেতু দিয়ে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁিক নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রায়ই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এছাড়া ব্রিজ দিয়ে ছোট ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে অটোবাইক, মোটরসাইকেল, টেম্পো, রিকশা ও ভ্যানসহ অভ্যন্তরীণ রুটের যানবাহনের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।

এ সেতু দুটি দিয়ে শিক্ষার্থীরা খলিশাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলার আরো ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়। বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিমুলতলা ও জাঙ্গালিয়াকান্দা গ্রাম, খলিশাকুড়া গারো বাজার এবং একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের লোকজন প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, খলিশাকুড়া গ্রামের গৃহবধূ সাজেদা বেগম প্রায় দুই বছর আগে সেতুতে উঠতে গিয়ে স্লিপার ভেঙে নিচে পড়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে এখন পঙ্গুত্ব বরণ করছে। গত মাসেও এক মোটরসাইকেল আরোহী সেতুতে উঠে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

স্থানীয় মনিরুজ্জামান, মোসলেম উদ্দিন ও তালেব হোসেন জানান, সেতু দুটি
দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক যাতায়াত করে। বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে
তাতে যাতায়াত করাই এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দুটি
স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। মেরামত করা না হলে
আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়া চিচাম ও সোহেল রানা বলেন, প্রতিদিন আমরা ভয়ে ভয়ে সেতু পার হয়ে স্কুলে যাই। স্কুলে যেতে না হলে এ সেতুতে কখনোই উঠতাম না।
একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা বলেন, আমি ৪ বছর আগে এ স্কুলে যোগদানের পর থেকেই সেতু দুটির বাজে অবস্থা দেখতেছি। শুনি ঠিক হবে, কিন্ত আজও হয়নি। ব্রিজের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ বলে ছোট ছোট শিক্ষার্থীর ঠিকমতো স্কুলে আসে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শুনেছি সেতু দুটির অবস্থা খুব বেহাল। মানুষের চলাচলের জন্য সেতু দুটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares