ছাত্রলীগের প্রচেষ্টায় ২১০ জনকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত

বাইজীদ আহমেদ,বেরোবি প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বাংলাদেশের অন্যতম একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। রংপুরের জনমানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়।অথচ প্রতিষ্ঠার একযুগ পরেও বিভিন্ন স্বার্থন্বেষী মহলের চক্রান্তের স্বীকার বিশ্ববিদ্যালয়টি। নোংরা মানসিকতার কিছু গোষ্ঠীর বিষাক্ত থাবায় বার বার হোচট খেয়েছে এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের অগ্রযাত্রা।

সম্প্রতি করোনাকালীন আর্থিক সহায়তা প্রদানে অবহেলা সংক্রান্ত একটি বিষয়ে শিক্ষক,শিক্ষার্থী সহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অনেকের মাঝে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ দেখা যায়।তিন মাস অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও করোনাকালীন আর্থিক সহায়তা পায়নি আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় তহবীল থেকে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং সময়ের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করে দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে অর্থ সহায়তা দেয়নি।

বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি সংবাদপত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা।এসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং ভিসির সমালোচনা করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। অনেকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করেছেন।

ইস্যুটি দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই ভার্সিটি ছাত্রলীগের নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের হস্তক্ষেপে ভার্সিটি প্রশাসন ২১টি বিভাগের ২১০ জন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই আর্থিক সহায়তা ক্যাম্পাস খোলার সাথে সাথেই প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া “দৈনিক সকালের ডাক” পত্রিকাকে বলেন,
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানাই,তবে প্রতিটি বিভাগের প্রতিটি ব্যাচের ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।।বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাধারণত শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সবসময়ই কাজ করছে,আগামী দিনেও একই ভাবে কাজ করবে।

পোমেল বড়ুয়া(সভাপতি, বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগ) বলেন,ঢাকঢোল পিটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা দিলেও সময়মত পাশে থাকতে পারে নি বলে আমি মনে করি। স্বজনপ্রীতি ছাড়াই যদি সুষ্ঠুভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান সম্পন্ন করতে পারে তবেই আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় ছিল,আছে এবং থাকবে।

মোঃ তানভীর আহমেদ(সদস্য,বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ) বলেন,এই করোনাকালে দেরিতে হলেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাই।যেহেতু করোনাকালে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে সেহেতু তাদেরকে উক্ত সহায়তা তাদেরকে দ্রুত মোবাইল ব্যংকিং এর মাধ্যমে দেওয়ার আহবান করছি।যদি সম্ভব হয় তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা গেলে অনেকেই উপকৃত হবে।এতে শিক্ষার্থীদের এই বিপদে কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হতে পারে বলে মনে করি।

অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে ছাত্র প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পরেই আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত দেয় ভার্সিটি প্রশাসন। যার ফলশ্রুতিতে হয়ত নির্দিষ্ট পরিমান শিক্ষার্থীর উপকার হবে তবে অনেকেই দাবি করেছেন যাতে উক্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যাটা বৃদ্ধি করা হয় এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares