চরফ্যাশনে পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মাণে বিট অফিসারের চাঁদা দাবী

স্টাফ রিপোটার

“শেখ হাসিনার উদ্যোগ’ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভোলা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন নতুন লাইন নির্মাণে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ সম্পাদন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মেইন সড়কে ১৩ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ পায় বিক্রমপুর ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্যাকেজ নং ২৬৬-০১। লাইন নির্মাণ কাজটি সড়কের পাশে গাছের ডালপালা থাকায় ১৩ জুন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ২৭,১২,০৯২৯,১২২৪,৯৪(৩১),০০১,২০,১৭৯২ স্মারকে ভোলা বন বিভাগ ও বিভিন্ন উপজেলায় সংযুক্ত চিঠি পাঠান।
সাব-ঠিকাদার হাসান খান জানান, লাইন নির্মাণের জন্য পরবর্তীতে চরফ্যাশন স্থানীয় বন বিভাগে যোগাযোগ করে সড়কের ডালপালা কর্তন এর জন্য লেবার নিয়োগ করে কাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ডালপালা কর্তন শুরু হলে চরফ্যাশন বন বিভাগ রেঞ্জের বিট অফিসার মাসুদ মাতাব্বর সাইডে এসে সাইট ঠিকাদার হাসান খানের কাছে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি সুরাহা করার জন্য স্থানীয় ইউপি মেম্বার মধ্যস্থতা করে বিট অফিসার মাসুদকে ছাব্বি শত টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেন। কয়েকদিন পর বিট অফিসার পুনরায় হাসান খানের কাছে কাজ চলমান যতদিন থাকবে প্রতিদিন তাকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করেন।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বনবিভাগকে প্রেরিত চিঠি।
তার এই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পল্লী বিদ্যুৎ ঠিকাদারের লেবারদের কাজ বন্ধ করে দেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লোকজন এই ঘটনা চরফ্যাশন রেঞ্জ অফিসার আলমগীরকে জানালে তিনি বিট অফিসার মাসুদ মাতাব্বর কে মৌখিক শোকজ করেন এবং ভবিষ্যতে এধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে আবারও লাইন নির্মাণে গাছের ডাল পালা কাটা শুরু হলে ২৯ জুন দুপুরে দুলারহাট সড়কের পাশে বিট অফিসার মাসুদ মাতাব্বর লেবারদেরকে ডালপালা কাটার কাজ বন্ধ করেন এবং কার হুকুমে ডাল কেটেছে এই অজুহাতে লেবারদের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করার জন্য ডালপালা কাটার সুযোগে বিট অফিসার মাসুদ তার নিজের লোক দিয়ে রাস্তার পাশে ঝুঁকে-পড়া বিভিন্ন প্রজাতির মোটা গাছ কেটে নিয়ে যায়। (প্রমাণস্বরূপ সংবাদকর্মীদের কাছে ভিডিও ফুটেজ দেওয়া হয়)
এই বিষয়ে সাব-ঠিকাদার হাসান খান আরো জানান, বন বিভাগের বৈধ নির্দেশনা থাকার পরেও বিট অফিসার মাসুদ মাতাব্বর চাঁদার জন্য আমার কাজে বাধা প্রদান করছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইউসুফ এর মধ্যে তাকে ছাব্বিশ শত টাকা দিয়েছি। চাঁদার টাকা না পেয়ে ৬দিন কাজ বন্ধ করে আমার একলক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে। আমার ক্ষতিপূর ও লেবারদের হাত কাটার হুমকি দেওয়া সহ তার সকল অপরাধ বিচার করার জন্য ভোলা জেলা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবী করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ জানান, আমি নিজে বিট অফিসার এ কে টাকা দিয়ে ঝামেলা মীমাংসা করেছি।  কিন্তু তার পরেও তিনি আরো টাকা দাবি করা এটা অনৈতিক। তারে চাঁদাবাজির  বিচার হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ভিট অফিসার মাসুদ মাতব্বর জানান, গাছ কাটার সাইডে আমাদের অফিসের কর্মী থাকতে হয়। তার খাবার ও যাতায়াত বাবদ প্রতিদিনে আমি ৫শত টাকা করে চেয়েছি।
এই ঘটনায় চরফ্যাশন রেঞ্জ অফিসার আলমগীর জানান, বিষয়টি আমার কাছে পল্লী বিদ্যুতের একজন এসে জানালে প্রাথমিক আমি মাসুদ মাতব্বরকে আমি মৌখিক শোকজ করেছি এবং আমার ঊর্ধ্বতন দুইজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। ঘটনা যাচাই করে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares