চরফ্যাশনের বেতুয়ায় এক সপ্তাহ লঞ্চ চলাচল বন্ধে যাত্রীদের দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোলার চরফ্যাশনে বেতুয়া লঞ্চ ঘাটে  এক সপ্তাহ যাবৎ সকল লঞ্চ আসা যাওয়া বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়ছে যাত্রীরা। তবে কি কারনে  লঞ্চ বন্ধ করেছেন তা খতিয়ে দেখতে নেতৃবৃন্দের নিকট আহ্বান জানিয়েছেন দুর্ভোগের স্বীকার হওয়া যাত্রীরা।
গেল ২৬সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৪টায় বেতুয়া লঞ্চ ঘাটে দেখা যায়, অসংখ্য যাত্রী ঢাকা যাওয়ার আশা নিয়ে পল্টুনে বসে আছে, কিন্তু কোন লঞ্চের দেখা নেই৷ তাসরিফ, ফারহান, কর্ণফুলীর এ তিন কোম্পানির ছয়টি লঞ্চ দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা টু চরফ্যাশন, চরফ্যাশন টু ঢাকা যাত্রী নিয়ে আসা যাওয়া করতো৷ গত রবিবার থেকে অদৃশ্য কারণে চরফ্যাশন বেতুয়া ঘাটে সকল লঞ্চ আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন৷ এ ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে৷
জানা যায়, গত এক সপ্তাহ যাবত বেতুয়া ঘাট লঞ্চ না আসলেও প্রতিনিয়ত ঢাকা থেকে তিন কোম্পানির ছয় টি লঞ্চ হাকিমুদ্দিন, দৌলতখাঁ নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন৷ কর্ণফুলী লঞ্চের এক কর্মকর্তার নিকট বেতুয়া ঘাটে লঞ্চ না আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবহাওয়ার কারণে বেতুয়া যাওয়া হয় না এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না৷ কথাটি যে মিথ্যা বলেছে তা না বোঝার কোনো অবকাশ নেই৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লঞ্চের অন্য কর্মকর্তা জানান, চরফ্যাশন বেতুয়া ঘাটের স্থানীয় লোকদের অসামাজিক আচরণ ও মনগড়া নতুন নতুন নিয়ম মানতে বাধ্য করা হচ্ছে লঞ্চ মালিকদের৷ এসকল আচরণ নিয়ে এক প্রকারের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়৷ সে থেকে সকল কোম্পানির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চরফ্যাশন বেতুয়া ঘাটে লঞ্চ আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷
ঢাকা থেকে আসা জনতা বাজার ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আবু সিদ্দিক বলেন, রাত তিনটার সময় চরফ্যাশনের সকল যাত্রীকে হাকিমুদ্দিন ঘাটে নামিয়ে দিয়েছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ৷ তারা বলেন, বেতুয়া ঘাটে লঞ্চ যাবে না, আপনারা এখানেই নামতে হবে৷ দেখা গেল এক করুণ দৃশ্য চরফ্যাশনের মহিলা, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশুসহ অসংখ্য যাত্রী গভীর রাতে কোথায় যাবে কি করবে হতাশ হয়ে পড়েছেন সকল যাত্রী৷
তিনি আরো বলেন, বেতুয়া ঘাটে লঞ্চ কোম্পানি কেন আসা যাওয়া বন্ধ করেছে এর কারণ খতিয়ে দেখে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরায় দ্রুত সময়ে বেতুয়া থেকে লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন চরফ্যাশনের ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares