খতমে কোরআন আদায়ের প্রাতিষ্ঠানিক রূপকার খলিফায়ে রাসুল হযরত গাউছুল আজম (রা.) – অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহ্

 

আল কোরআন মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত এবং প্রিয় নবীজির সর্বশ্রেষ্ঠ মুজেজা। পবিত্র কোরআন এর পরতে পরতে রয়েছে হেদায়তময় শান্তির রূপরেখা। কোরআন পড়লেও সাওয়াব, শুনলেও সওয়াব। কোরআনময় পৃথিবী গড়ার জন্য প্রিয় রাসুল (দ.) সমস্ত জীবন রক্ত, অশ্রু ও ঘাম মোবারক ঝরিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে দ্বীনের এমন সুমধুর রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রিয় নবীজির হুবহু পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইতিহাসে যারা স্মরণীয়, বরণীয়, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে খলিফায়ে রাসুল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.) এর নাম মোবারক যুগ থেকে যুগান্তরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্বর্নালী হরফে লিপিবদ্ধ থাকবে। ইতিহাস উনাকে স্মরণ করবে এখলাসময় কৃতজ্ঞতায়, ভালোবাসাময় মূর্ছনায়। যিনি কোরআনকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন, চেতনায় গ্রহণ করেছেন, চিন্তায় লালন করেছেন এবং কাজে কর্মে বাস্তবায়ন করেছেন। শুধু নিজে পালন করেছেন তাই নয় সমস্ত মানবজাতির জন্য কোরআনকে জীবনে ধারণ করার ঐতিহাসিক পথ ও পাথেয় দিয়ে গেছেন।
গত মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা হতে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদের কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ কমপ্লেক্সস্থ খলিফায়ে রাসূল হযরত গাউছুল আজম মুনিরী (রা.) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ঈছালে ছাওয়াব, দরবারের মহীয়সী রমণী জমানার রাবেয়া বসরী রূহানী আম্মাজান (রহ.) এর সালানা ওফাত শরীফ এবং পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক খতমে কোরআন মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে কাগতিয়া দরবার শরীফের মোর্শেদে আজম উপস্থিত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ তকরিরে একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, হযরত গাউছুল আজম (রা.) এমন এক নেয়ামত দিয়ে গেছেন যার শোকর কখনো শেষ করবার নয়। কোরআন এর চার অবস্থা ১.আলফাজে কোরআন ২. নকুশে কোরআন ৩. মানায়ে কোরআন ৪. ফয়েজে কোরআন তথা নূরে কোরআন । ফয়েজে কোরআন এর মাধ্যমে তরিক্বতপন্থীদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সারা জীবন যিনি অশ্রুসজল আর্তনাদে কাটিয়েছেন আর কোরআন তেলওয়াত এর বরকতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন ঐতিহাসিক খতমে কুরআন মাহফিলের। প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । যার জন্য বছরের শুরু থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এই মহান মাহফিলে হাজার হাজার খতমে কোরআন আদায় হয়। দেশে বিদেশে সকলেই এ খতমে কোরআনে অংশগ্রহণ করে। রমজানের পবিত্রতাকে আরো মনোমুগ্ধকর করে তোলে খতমে কুরআনের এমন আয়োজন। হযরত গাউছুল আজম এর বরকতময় জীবনের পুরোটাই কোরআনের রঙে রাঙানো, নবী মোস্তফার প্রেমে জড়ানো এবং ইশকে ইলাহীর বন্ধনে বাঁধানো। তাইতো উনার তরিক্বত গ্রহণ করলে একজন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে উঠে কোরআন প্রেমের তরঙ্গ, সদা সর্বদা কামনা করে নবীজির সঙ্গ, কাজে কর্মে সবকিছুতে থাকে আরশওয়ালার প্রসঙ্গ।

উল্লেখ্য যে, এ বছর ১১১১১টি খতমে কোরআন, ৬৭৫টি তাহলিল, ৫৬ টি খতমে ইউনূচ ও ৩২ টি দরূদে সাইফুল্লাহ আদায় করা হয়। বিশে^র বুকে একসাথে এত সংখ্যক কোরআন খতমের নজির বিরল। পবিত্র খতমে কোরআন মাহফিলে হাজার হাজার মুমিন মুসলিমের উপস্থিতিতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খলিফায়ে রাসুল হযরত গাউছুল আজম (রা.) এর একমাত্র প্রতিনিধি মহান মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী । মোনাজাতে সকলের অভিন্ন আবেদন ছিলো খতমে কোরআনের বরকতের উসিলায় মোর্শেদে আজম এর হায়াত কামনা, দেশ-জাতির উন্নতি,অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা । মোনাজাতের সময় আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে মাহফিল প্রাঙ্গণ। সকলের চোখে ছিলো অশ্রু, চেহারায় ছিলো মাহে রমজানের স্নিগ্ধতা, সর্বোপরি বিরাজ করছিলো কোরআনময় অনুভূতিমাখা ঐশী মুগ্ধতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares