ক্বেবলার কিছু মাসায়েল

দৈনিক সকালের ডাক

১।মাসআলাঃ যদি কেহ এমন জায়গায় গিয়া পড়ে যে, তথার ক্বেবলা কোন দিকে তাহা ঠিক করিতে পারে না এবং এমন লোকও পায় না যে, তাহার কাছে জিজ্ঞাসা করিতে পারে, তবে সে তাহাররি করিয়া ক্বেবলার দিক ঠিক করিবে। তাহাররি অর্থ চিন্তা করা অর্থাৎ, মনে মনে চিন্তা করিবে ক্বেবলা কোন দিকে। চিন্তার পর মন যে দিকে সাক্ষ্য দিবে সেই দিকে মুখ করিয়া নামায পড়িবে। এইরূপ অবস্থায় যদি তাহাররি না করিয়া নামায পড়ে তবে নামায হইবে না। এমন কি যদি পরে জানিতে পারে যে, ঠিক ক্বেবলার দিক হইয়া নামায পড়িয়াছে, তবুও নামায হইবে না। যদি সেখানে কোন লোক থাকে, তবে তাহাররি করা চলিবে না। সেই লোকের নিকট জিজ্ঞাসা না করিয়া নামায পড়িলে নামায হইবে না, স্ত্রীলোক লজ্জায় জিজ্ঞাসা ব্যতীত আন্দায করিয়া একদিকে নামায পড়িলে তাহারও নামায হইবে না। খদার হুকুম পালন করার বেলায় লজ্জা করিবে না, সাহস করিয়া জিজ্ঞাসা করিয়া লইতে হইবে।

২।মাসআলাঃ যদি কোন লোক না থাকায় জিজ্ঞাসা করিতে না পারিয়া তাহাররি করিয়া নামায পড়িয়া থাকে এবং পরে নামায শেষ হইলে জানিতে পারে যে, ক্বেবলা ঠিক হয় নাই, তবুও নামায হইয়া যাইবে। (নামায দোহরাইতে হইবে না। কেননা, এইরূপ অবস্থায় তাহার জেহাতে তাহাররি অর্থাৎ যে দিকে তাহার মন সাক্ষ্য দেয় সেই দিকে হইয়া নামায পড়াই তাহার জন্য ফরয ছিল, তাহা সে আদায় করিয়াছে কাজেই তাহার নামায হইয়া যাইবে।)

৩।মাসআলাঃ উপরোক্ত অবস্থায় তাহাররি করিয়া এক দিকে ক্বেবলা ঠিক করিয়া নামায শুরু করিয়াছে, নামাযের মাঝখানে হয়ত নিজেই জানিতে পারিয়াছে যে, পূর্বের মত ভুল হইয়াছে, বা কেহ বলিয়া দিয়াছে যে, ওদিকে ক্বেবলা নয়, তবে ছহীহ ক্বেবলা জানার পর তৎক্ষণাৎ সেই দিকে ঘুরিয়া দাড়াইয়াতে হইবে, জানার পর যদি ছহীহ ক্বেবলার দিকে ঘুরিয়া না দাঁড়ায়, তবে নামায হইবে না।

মাসআলাঃ যদি একদল লোক এরূপ অবস্থায় পতিত হয় যে, ক্বেবলা কোন দিকে তাহা কেহই জানে না (এবং জিজ্ঞাসা করিবার জন্য লোকও পায় না,) অথচ জামাআতে নামায পড়িতে চায়, তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ তাহাররি পৃথক ভাবে করিবে এবং তদনুযায়ী নামায পড়িবে।  (তাহাররি করিয়া দেল ঠিক করার পর যদি কয়েক জনের মত একদিকে হয়, তবে সেই কয়জন এক সঙ্গে জামাআত করিয়া নামায পড়িতে পারিবে) কিন্তু যাহার মত ইমামের মতের সঙ্গে মিশিবে না, সে ঐ ইমামের পিছে এক্তেদা করিতে পারিবে না। সে পৃথক নামায পিরিবে। কেননা, তাহার মতে ঐ ইমাম ভুল মত পোষণ করিয়া ক্বেবলা ভিন্ন অন্য দিক হইয়া নামায পড়িতেছে এবং ফরয তরক করিয়াছে। কারণ, কাহাকেও খোদার বিরুদ্ধে ভুল মত পোষণকারী মনে করিয়া তাহার পিছে এক্তেদা করা জায়েয নহে; সুতারাং ঐ ইমামের পিছে এক্তেদা করিলে তাহার নামায হইবে না।– গওহার

৪।মাসআলাঃ কা’বা শরীফের ঘরের ভিতরও নামায পড়া দুরুস্ত আছে- নফলই হইক, এর ফরযই হউক।

৫।মাসআলাঃ কা’বা শরীফের ঘরের ভিতর নামায পড়িলে যে দিক ইচ্ছা সেই দিক হইয়া নামায পড়িবে, সেখানে ক্বেবলা সব দিকেই।

৬।মাসআলাঃ যাহারা এমন জায়গায় আছে যেখান থেকে কা’বা শরীফের ঘর দেখে যায়, তাহাদের ঠিক ঘরের দিকে মুখ করিয়া নামায পড়িতে হইবে। তাহাদের জন্য পূর্ব পশ্চিম বা উত্তর দক্ষিনের কোন কথাই নাই। কিন্তু যাহারা দূরবর্তী স্থানে আছে তাহারা কা’বা শরীফের ঘর যে দিকে আছে সেই দিকে মুখ করিয়া নামায পড়িবে। কা’বা শরীফের ঘরে পূর্ব দিকের লোক পশ্চিম দিকের লোক পূর্ব দিকে, উত্তর দিকের লোক দক্ষিন দিকে এবং দক্ষিন দিকের লোক উত্তর দিকে মুখ করিয়া নামায পড়িবে। ফলকথা, পৃথিবীর যে কোন স্থানে যে কেহ থাকুক না কেন, তাহাকে কা’বা শরীফের দিকে মুখ করিয়া নামায পড়িতে হইবে।

৭।মাসআলাঃ কেহ যদি নৌকায়, ষ্টীমারে বা রেলগাড়ীতে ক্বেবলা ঠিক করিয়া ক্বেবলার দিকে মুখ করিয়া নামায পড়িতে দাঁড়ায় এবং পরে নৌকা, গাড়ী ইত্যাদি ঘুরিয়া যায়, তবে তাহাকে তৎক্ষণাৎ ঘুরিয়া ক্বেবলার দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইতে হইবে; ঘুরিয়া ক্বেবলার দিকে মুখ না করিলে নামায হইবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares