কোলন ক্যন্সারে করণীয়

সকালের ডাক ডেস্ক

আমাদের জীবনযাপনের ধরন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হচ্ছে দিন দিন। সঙ্গে বদলে যাচ্ছে রোগের ধরনও। বাংলাদেশে ক্যানসার আক্রান্ত পুরুষ রোগীদের প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ কোলন ক্যানসারে ভুগছে। নারীদের হার কিছুটা কম।

কোলন ক্যানসার কাদের এবং কেন হয়
কোলন ক্যানসার সাধারণত ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের হয় এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের এ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ও মদ্যপান করলে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পূর্ববর্তী অন্ত্রের রোগ, যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস, দীর্ঘস্থায়ী অন্ত্রের পলিপ কোলন ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তা ছাড়া বংশগত কারণে যদি একটি নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তন হয়, তবে তা পরবর্তী সময়ে কোলন ক্যানসারকে ত্বরান্বিত করে। কারও রক্তের সম্পর্কের কোনো আত্মীয়–পরিজন কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত থাকলেও কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

রোগের লক্ষণ
প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত রোগীর পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা ফাঁপা লাগা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।
মলত্যাগের পরও মনে হতে পারে ভালোভাবে মলত্যাগ হয়নি। এ ছাড়া রোগ ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে।

ক্যানসার নির্ণয়
কোলনস্কোপি হলো কোলন ক্যানসার নির্ণয়ের সর্বোত্তম পরীক্ষা। এখন সহজেই কোলনস্কপি পরীক্ষা করা যায়। কোলনের নিচের অংশে টিউমার হলে সিগময়ডোস্কোপি নামক আরেকটি সহজ পরীক্ষা করা যায়। কোলনস্কোপি বা সিগময়ডস্কোপির মাধ্যমে যেমন সরাসরি টিউমার দেখা যায়, তেমনি সেখান থেকে টিস্যু নিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিতভাবে বলা যায় ক্যানসার কি না।

চিকিৎসা
কোলন ক্যানসারের একমাত্র চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। কোলনের ক্যানসার আক্রান্ত অংশ এবং তার আশপাশ অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ক্যানসারের অবস্থাভেদে যুক্ত করা হয় কেমোথেরাপি অথবা রেডিও থেরাপি। যেকোনো ক্যানসারের চিকিৎসায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ এখন সারা বিশ্বে বহুল সমাদৃত। এটি হলো সার্জন, প্যাথলজিস্ট, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, সাইকোথেরাপিস্টসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

প্রতিরোধে করণীয়
কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে নিয়মিত আঁশযুক্ত, অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এবং ভিটামিন ও খনিজযুক্ত খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, মদ্যপান ও ধূমপান পরিহার করাও এই ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোগনির্ণয়ের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি।
এই সময়ে কোলন ক্যানসারের খুব ভালো চিকিৎসা দেশেই রয়েছে। চিকিৎসায় শত শত রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থভাবে জীবন যাপন করছে। সুতরাং প্রতিরোধ ও প্রতিকারযোগ্য এই ক্যানসারকে প্রতিহত করার জন্য দরকার একটুখানি সতর্কতা ও সচেতনতা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা।

ডা. নাফিসা আবেদীন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares