কিট নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত ঔষধ প্রশাসনের: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

নিউজ ডেস্ক

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা পরীক্ষার কিট ‘কার্যকরী নয়’ বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এ ব্যাপারে ‘গণমাধ্যমে জেনে’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যাক্ষ ও জিআর কভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় বিএসএমএমইউ ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত জিআর কভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট এর গুণগতমান পরীক্ষা’ বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ের মূল্যায়ন রিপোর্ট ও মতামত জানিয়েছে।

এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বক্তব্য হলো- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাথে বিএসএমএমইউ এর একটি ‘নন ডিসক্লোজ এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) রয়েছে। আমরা এখনও বিএসএমএমইউ থেকে কোন অফিশিয়াল বিস্তারিত রিপোর্ট পাইনি এবং আমাদের সাথে এনডিএ অনুসারে কোনপ্রকার আলোচনা করা হয়নি। এটা পেলেই পরবর্তীতে চুক্তি অনুসারে আমরা আমাদের মতামত বিএসএমএমইউকে জানাবো।

এছাড়া কিটের নিবন্ধন ও বিপণনের বিষয়ে বর্তমানে ‘যা করার’ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে গেল ৮ মার্চ প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ টেস্টিং কিট উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তাদের দাবি, এই কিটের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ মিনিটের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে সক্ষম। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে এই কিট তৈরি করেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমির উদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ। এরপর বিদেশ থেকে কাচামাল আমদানি করে কিট উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

নিয়ম অনুযায়ী কিটটি নিবন্ধনের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।  ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত ৩০ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তাদের উদ্ভাবিত ‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ অথবা আইসিডিডিআরবিতে নমুনা জমা দেওয়ার অনুমতি দেয়।

গত ২ মে বিএসএমএমইউর কর্তৃপক্ষ কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে। আর ১৩ মে নিজেদের উদ্ভাবিত ২০০ কিট বিএসএমএমইউতে জমা দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য গঠিত এই কমিটির প্রধান অধ্যাপক শাহীনা তাবাসসুম বুধবার দুপুরে উপাচার্যের কাছে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেন। মূল্যায়ন প্রতিবেদন হাতে পেয়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া গণমাধ্যমে ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের রোগ শনাক্তকরণের গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকরী নয়। তিনি বলেন, উপসর্গের প্রথম দুই সপ্তাহে (তাদের) কিট ব্যবহার করে শুধুমাত্র ১১ থেকে ৪০ শতাংশ রোগীর করোনা শনাক্তকরণ সম্ভব।

উপাচার্য বলেন, এই কিট অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারলেও আইজিএম (ইমিউনোগ্লোবিন এম, যা ইনফেকশনের শুরুতে তৈরি হয়) এবং আইজিজি (ইমিউনোগ্লোবিন জি, ইনফেকশনের বিলম্বিত পর্যায়ে তৈরি হয়) তা আলাদাভাবে পার্থক্য করতে পারে না।

তবে এই কিট কোভিড-১৯ এর বিস্তার বোঝার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এর মাধ্যমে ৭০ শতাংশ রোগী, যাদের ইতোপূর্বে কভিড-১৯ হয়েছিল, তাদের শনাক্ত করা সম্ভব।’ আর অ্যান্টিবডি টেস্টের ওই তথ্য প্লাজমা বিতরণ, কোয়ারেন্টিন সমাপ্তির সময় নির্ধারণ এবং লকডাউন উত্তোলনের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মত দেন অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ‘যেসব স্থানে প্রচলিত আরটি-পিসিআর পদ্ধতি চালু নেই, অথবা যাদের কভিড-১৯ উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও আরটি-পিসিআর নেগেটিভ এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কিট কিছুটা সহায়ক হতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares