কাপাসিয়ায় প্যারামেডিকেলের ছাত্রের মৃত্যু, স্বজনরা হোম কোয়ারেন্টিনে

গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় প্যারামেডিকেলের এক ছাত্র মঙ্গলবার মধ্যরাতে মারা গেছেন। স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করলেও স্থানীয়দের দাবি তার করোনা ভাইরাসের লক্ষণ সর্দি-জ্বর ছিল। তবে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা সংক্রমন ছিল কি-না তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এসময় তারা নিহতের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

নিহতের নাম সেলিম আকন (২৫)। সে কাপাসিয়া উপজেলার উলুসারা গ্রামের সুরুজ্জামানের ছেলে।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার উলুসারা গ্রামের সেলিম আকন (২৫) নামের প্যারামেডিকেলের এক ছাত্র মারা গেছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সেলিম মারা যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে দাবি করলেও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা সংক্রমন ছিল কি-না তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং নিহতের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

নিহতের বাবা সুরুজ্জামান জানান, ঢাকার একটি বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে (প্যারামেডিকেলে) শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল সেলিম । সম্প্রতি ইন্টর্নীশিপ করতে নারায়নগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিল সে। সারাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বাড়তে থাকায় ২২ দিন আগে সে নারায়নগঞ্জ থেকে বাড়ি চলে আসে। এরপর থেকে সে বাড়িতে অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় একটি মাঠে ফুটবলও খেলেছে। রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিল সেলিম। হঠাৎ রাত ১২টার দিকে তার বুকে ব্যথা উঠে এবং চিকিৎসকের কাছে নেয়ার আগেই হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (স্ট্রোক করে) মারা গেছে। তার শ্বাসকষ্ট কিংবা করোনার কোন লক্ষণ ছিল না।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সালাম সরকার বলেন, শ্বাস কষ্ট না থাকলেও সেলিমের ঠান্ডা-জ্বর ছিল। এজন্য তিনি ঔষধও সেবন করেছেন। করোনা সংক্রমন ছিল কি-না তা নিশ্চিত হতে সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর’এ পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলা হয়েছে। ওই যুবকের দাফন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী করা হবে।

কাপাসিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসমত আরা বলেন, নিহত সেলিম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই তার ও স্বজনদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত ওই বাড়িতে লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়রেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares