কলকাতায় কদিন পরপরই ঠিকানা বদল করতেন মাজেদ

কলকাতা অফিস

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদ ২৩ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন। এমনটিই বাংলাদেশে পুলিশের জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন। গত সোমবার রাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় তিনি জানান, গত মাসেই কলকাতা থেকে বাংলাদেশ ফিরে আসেন। যদিও কলকাতার ঠিক কোন ঠিকানায় তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন তা জানাননি।

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবির) বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস) জানায়, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ আইবির একটা প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, যদিও তা সরকারিভাবে নয়। কলকাতায় কোন জায়গায় মাজেদ অবস্থান করেছেন বা এখানে থাকাকালে তিনি কী ধরনের কাজে লিপ্ত ছিলেন সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য আমাদের জানানো হয়নি।

যদিও আইবি সূত্রে খবর, বিভিন্ন সোর্স মারফত তারা জানতে পেরেছে কলকাতার পাশাপাশি উত্তর চব্বিশপরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশপরগনা জেলার একাধিক জায়গায় মাজেদ অবস্থান করেছিলেন। নাম না জানানোর শর্তে রাজ্য আইবির এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের বলা হয়েছে যে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণিত করার জন্য তিনি স্থানীয় নথি জোগাড় করে ভারতীয় প্যানকার্ড, ভোটার কার্ড এবং পাসপোর্টও বানিয়ে ফেলেছিলেন। ধরা পড়ার ভয়ে তিনি একটি জায়গায় কখনই বেশি দিন থাকতেন না। কলকাতায় থাকাকালে ভাড়া করা বাড়িতেই থাকতেন এবং একাধিবার সেই ঠিকানা পরিবর্তন করে নতুন আরেকটি জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন মাজেদ। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের মধ্যে মাজেদ হলেন অন্যতম।

এই হত্যালীলায় নিজের জড়িত থাকার স্বীকারও করেছিলেন মাজেদ। কিন্তু এরপরও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাই করা হয়নি। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের পিতার হত্যা মামলাটি নতুন করে শুরু করায় গা-ঢাকা দেন মাজেদ। ১৯৯৮ সালে মাজেদসহ ১২ জনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন নিম্ন আদালত। ২০০৯ সালে দেশটির সুপ্রিমকোর্টও সেই আদেশ বহাল রাখেন। ২০১০ সালে দোষী সাব্যস্ত পাঁচজনকে ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়, একজন শারীরিক অসুস্থতার করণে মারা যায়। বাকিরা সবাই নিখোঁজ।
এরই মধ্যে গত ১৬ মার্চ কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছেন আবদুল মাজেদ।

রাজ্যের ওই আইবি কর্মকর্তা জানান, আমাদের বলা হয়েছিল যে, মাজেদ কলকাতায় একাই থাকতেন। তবে কলকাতায় তিনি কী কাজ করতেন তা এখনও জানা যায়নি। তার স্ত্রী থাকেন বাংলাদেশে এবং ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রায় ২২ বছর কলকাতায় গা-ঢাকা দেওয়ার পর কেন বাংলাদেশে ফিরে গেলেন তাও পরিষ্কার নয়। যদিও একটি মহল বলছে করোনাভাইরাসের আবহেই আর ঝুঁকি নিতে চাননি মাজেদ। বিশেষ করে যেভাবে করোনার মোকাবেলায় ভারতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশাসনিক স্তরে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছিল এবং স্থানীয়স্তরে কে কোথা থেকে কতদিন আগে এসেছেন তার খোঁজখবর চলছিল, সেখানে থেকে ঝুঁকি নিতে চাননি মাজেদ। যে কারণেই বাংলাদেশে ফিরে যান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares