করোনা মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধা হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার

গোলাম রব্বানী,হাকিমপুর প্রতিনিধি:          

বাংলাদেশের উত্তর জনপদের দিনাজপুর জেলার সীমান্ত ঘেঁষা হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা। আয়তনের দিকে ছোট পরিসরে হলেও উপজেলাটি ঘন বসতি পূর্ণ। এই হাকিমপুর (হিলিতে) উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে ২০১৮ সালের ০৭ নভেম্বর যোগদান করেন আব্দুর রাফিউল আলম।
তার পরে থেকেই উপজেলার উন্নয়নের জন্য সবার সাথে আন্তরিকতার সহিত বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। যার ফলে, উপজেলায় ইতিমধ্যেই সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে ।
 বর্তমান  করোনাকালীন সময়ে  হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রাফিউল আলম সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে      উপজেলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে, তাদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, অত্র এলাকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে চলতি বছর মার্চের শেষ থেকে উপজেলার নয়টি প্রবেশ দ্বারে পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন, ভিডিপি-গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন,  গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় তিনি নিজে হ্যান্ড মাইক নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে করোনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছেন।
ওয়ার্ড পর্যায়ে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে উপজেলা হতে একজন করে অফিসার নিয়োগে ট্যাগ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের করোনা প্রতিরোধ কমিটি গুলো সচল এবং কার্যকরী রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। আর এর ফলে দ্রুততম সময়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, এপর্যন্ত সরকারের জারিকৃত নির্দেশাবলী না মানার কারণে ও আইন ভঙ্গকরার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৭ টি মামলায় ৬,৮৪,১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে । এ ছাড়াও হিলি বাজারের দোকান খোলা বা বন্ধ রাখার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন তিনি । এদিকে করোনাকালীন সময়ের মাঝে খেটে খাওয়া মানুষদের দৈনন্দিন খাবারের জন্য বাহিরে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যে অত্যান্ত স্বচ্ছতা ও সতর্কতার সাথে ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যাক্তিদের তালিকা প্রস্তুতের মাধ্যমে দিনে ও গভীর রাতে ওই সব অভাবী এবং খাদ্য কষ্টে থাকা মানুষ গুলোর বাড়ী বাড়ী গিয়ে খাদ্যসহায়তা পৌছে দিয়েছেন।
ত্রাণের চালসহ খাদ্য বান্ধব, ওএমএস, ভিজিডি কোন উন্মুক্ত স্থানে না দিয়ে বাড়ী বাড়ী পৌছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষ যেন নিত্যপন্য সামগ্রী কিনতে বাড়ীর বাহির না হয়, সেজন্য স্থানীয় সেবামুলক সংগঠন তারুন্যের শক্তি হাকিমপুর ফাউন্ডেশন ও উপজেলা প্রশাসনের  সমন্বয়ে মানুষের চাহিদার পণ্য বাড়ী বাড়ী পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রাফিউল আলম। এ ছাড়াও উপজেলা প্রশাসন কতৃক করোনা আক্রান্ত পরিবার ও লকডাউনকৃত পরিবারের খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কঠোর নজরদারী নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দর হওয়া সত্বেও দিনাজপুর জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার জনসাধারণ অনেক ভালো অবস্থানেে আছ। বর্তমান করোনাকালীন সময়ে, উপজেলায় এপর্যন্ত ০৫ জন করোনা রোগী সনাক্ত হলেও এরই মধ্যে ০৪ করোনা রোগী সুস্থ হয়েছে। যে কারণে দিনাজপুর জেলাকে সরকারি ভাবে  রেড জোন চিহ্নিত করা হলেও জেলার সীমান্ত ঘেঁষা হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা টি গ্রীন জোন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares