করোনায় মানবেতর জীবনযাপন এসিটি শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে খুব মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) প্রকল্প কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা।শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মেয়াদ শেষে সেকায়েপভুক্ত ৫,২০০ জন অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকদের (এসিটি) চাকরি স্থায়ীকরণ/পরবর্তী প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তি করার আশ্বাস দেওয়ার পরও বিগত ২৮ মাসে তা বাস্তবায়ন হয় নি।ফলে বেতনহীন অবস্থায় বিপাকে পরেছেন এই তরুণ শিক্ষকেরা।

সেই সাথে করোনা ভাইরাসের প্রভাব তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।তাদের দেখার বা খবর নেয়ার কেউ নেই।শিক্ষামন্ত্রনালয়ের অভিভাবকহীন এই অসহায় শিক্ষকদের একমাত্র ভরসার জায়গা হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫২০০ জন এসিটি চাকুরি স্থায়ীকরণের প্রজ্ঞাপন জারির পাশাপাশি করোনা মোকাবেলার জন্য আর্থিক প্রনোদনা চেয়েছেন।এসিটি শিক্ষকদের বিশ্বাস,”শিক্ষায় গুনগতমান বজায় রাখতে বিশ্বমানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে যথাযোগ্য মূল্যায়ন করবেন ।

উল্লেখ্য যে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এসিটিদের স্ব স্ব কর্মস্থলে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মৌখিক আশ্বাস ও বিভিন্ন সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসিটিদের স্থায়ীকরণ বা এসইডিপিতে অন্তর্ভূক্তি করণের জন্য উদ্যোগ নিলেও গত ২৮ মাসে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এদিকে এসিটিরা ২৮ মাসে বিনা বেতনে পাঠদান করে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন।শিক্ষামন্ত্রণালয় ভাবছে অভিজ্ঞ এসিটিদের বাদ দিয়ে নতুন করে এসইডিপি প্রোগ্রামে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে। উল্লেখ্য, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে গত ২০১৮ সালের আগষ্ট মাসে মাউশি কর্তৃক এসিটি শিক্ষকদের তালিকা নেয়া হয় এমপিওভুক্তির প্রস্তাবনার জন্য।২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে এসিটি শিক্ষকদের স্ব স্ব কর্মস্থলে এমপিওভুক্তি/এসইডিপিতে অন্তর্ভুক্তি ও বকেয়া বেতন প্রদানের জন্য আন্ত:মন্ত্রণাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে চাকরি স্থায়ীকরণ/এসইডিপিতে অর্ন্তভুক্তির সুপারিশ করা হয় যা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষককের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষাবান্ধব সরকার সেকায়েপ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৫২০০ জন মেধাবী স্নাতক ও স্নাতকত্তোরধারীদের বিষয়ভিত্তিক (ইংরেজি,গণিত ও বিজ্ঞান) অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষক (এসিটি) হিসেবে ৩ বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন যাদের মডেল শিক্ষক বলা হয়।

নিয়োগটি চুক্তিভিত্তিক হলেও এসিটি ম্যানুয়াল অনুযায়ী ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাশের হার বৃদ্ধি ও বিষয়ভিত্তিক মান বৃদ্ধির সাথে ঝড়ে পড়া রোধ, নিয়মিত ক্লাসের বাইরে ৩ বিষয়ে ৩৭,২০,০৯৪ টি অতিরিক্ত ক্লাস (সূত্র: ব্যানবেইস-২০১৮) নেয়ার ফলে কোচিং বাণিজ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য চাকরি স্থায়ীকরণ হওয়ার কথা।গত ২৮ মাসে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বিধায় অধিকাংশ এসিটির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ। এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এসিটি কর্তৃক নিয়মিত পাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস না হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেকায়েপভুক্ত প্রতিষ্ঠান তথা দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের উপর।

এসিটিদের দাবি, এসিটি ম্যানুয়ালের ৩৬ নং ধারা, অভিজ্ঞতা, বয়স ও মানবিক দিক বিবেচনা করে ২৮ মাসের বকেয়া বেতন প্রদান সহ দ্রুত চাকরি স্থায়ীকরণ বা বিনাশর্তে এসইডিপি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির জন্য এই মুজিববর্ষে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares