করোনার দুঃসময়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ রিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুরোবিশ্ব যেখানে করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে সবাই ঘরে বসে আছেন। ঠিক এ সময় অনেকেই সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। এমনই একজন মোহাম্মদ রিন্টু। তিনি এখন করোনা চিকিৎসক ও রোগীদের কাছে মহামানব।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের সবচেয়ে বেশী দরকার হয় অক্সিজেন সাপোর্ট। পাশাপাশি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, পেশেন্ট মনিটর এবং অ্যাম্বু ব্যাগসহ বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম (মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট) প্রয়োজন হয়। এছাড়া ঈদানিং অনেক রোগীর জন্য প্লাজমাও লাগে। রাত কিংবা দিন যখনই কেউ ফোন করবে সঙ্গে সঙ্গে এসব সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন মোহাম্মদ রিন্টুর একটি প্রশিক্ষিত টিম। তাৎক্ষণিক সেবার কারণে ডাক্তার, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রোগীর স্বজন সবার কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করে নিয়েছেন। সুপার মার্টবিডি, পিপলস প্লাস এবং ফার্স্ট এইড সেলবাজার নামে অনলাইন ও ফেসবুকের মাধ্যমে এসব সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পুরনো ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ রিন্টু্। পারিবারিকভাবে লেদার ও ট্যানারী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিজের পারিবারিক ব্যবসার বাইরে এসে সেবার মানসিকতা নিয়ে করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। করোনা আক্রান্তদের অন্তত ৫ শতাংশ রোগীর অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি না হলেও চলে। এসব রোগীদের স্বল্পমূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, পেশেন্ট মনিটর, অ্যাম্বু ব্যাগ এবং প্লাজমা পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব ওষুধ প্রয়োজন সেগুলোও বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

সেবাগুলো এতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে যে, অনেক বড় বড় হাসপাতালের ডাক্তাররা সরাসরি মোহাম্মদ রিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখানে যোগােযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কারণ রোগী সুস্থ হওয়ার জন্য যত ধরণের সহযোগিতা দরকার সবই তারা করে থাকেন।

একটি প্রশিক্ষিত টিম দিনরাত ২৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে সুপার মার্টবিডি, পিপলস প্লাস এবং ফার্স্ট এইড সেলবাজার পেজ রয়েছে। যে কেউ সেখান থেকে নাম্বার নিয়ে বা ইনবক্সে যোগাযোগ করে সেবা পাচ্ছেন। বিদেশ থেকেও অনেকে ফোন করে দেশে থাকা নিকাত্মীয়দের জন্য সেবা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ রিন্টু বলেন, আমি লেদার ও ট্যানারি ব্যবসার সঙ্গে পারিবারিকভাবে জড়িত। সেখানে আমাদের সুনাম আছে। কিন্তু যখন করোনাভাইরাস বাংলাদেশে সনাক্ত হওয়া শুরু হলো- তখন ভাবছিলাম কিভাবে মানুষের সেবা করা যায়। কিন্তু আমি তো ডাক্তার নই। কিংবা আমার কোনো হাসপাতালও নেই। ঠিক সেই সময় মাথায় আসলো করোনা চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হয়তো কিছুটা হলেও সেবা করতে পারবো। সেই চিন্তা থেকেই শুরু। বলতে পারেন হঠাৎ করেই নেমে পড়লাম। তিন মাস পর এখন নিজের কাছে স্বস্তি লাগছে। অন্তত দুঃসময়ে মানুষের উপকার করতে পেরেছি।

মোহাম্মদ রিন্টু আরও বলেন, করোনা রোগীদের মতো এ খাতে সেবা দিতে এসে অনেক বাধা ও হয়রানির স্বীকার হয়েছি। প্রথম দিকে এসব পণ্য রাখতে দেয়নি অনেক গোডাউন ও বাড়ির মালিক। সঠিকভাবে গুদামজাতের অভাবে নষ্ট হয়েছে অনেক পণ্য। তবুও হাল ছাড়িনি। সেবা করতে যেহেতু নেমেছি যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে।

জানা গেছে, করোনা রোগীর জন্য বেশ কিছু চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন হয়। যেমন অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, পেশেন্ট মনিটর, অ্যাম্বু ব্যাগ এবং প্লাজমাসহ অনেক ওষুধ। যেহেতু বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর ধারণ ক্ষমতা কম। তাই অনেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে এসব সামগ্রী ফোন অর্ডার দিয়ে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares