কক্সবাজার জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১,৩৪৭ সদস্যের বদলী

বেলাল আজাদ,কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারে আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়া পুলিশ বাহিনী ঢেলে সাঁজাতে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে।
 শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা সহ ১,৩৪৭ জনকে বদলী করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আট শীর্ষ কর্মকর্তা, ১৩৯ উপপরিদর্শক (এসআই), ৯২ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ১ হাজার ৫৫ জন নায়েব ও কনস্টেবল।  গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কক্সবাজারের ডিবি ও থানাসহ সব পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা ৩৪ পরিদর্শককে বদলী করা হয়। শুক্রবার সে সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বদলী হওয়া শূন্য পদ পূরণে আজই চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন ৫৩ জন পুলিশ পরিদর্শক, ৮৫ জন এসআই-এএসআই ও ৭৩৪ জন কনস্টেবল। এর মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে পুলিশ সুপার (এসপি) এবি এম মাসুদ হোসেনকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসাবে বদলি করা হয়। আর ঝিনাইদহের এসপি হাসানুজ্জামানকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি গত বুধবার কক্সবাজারের এসপি’র দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এসপি মাসুদ হোসেন কক্সবাজার থেকে বিদায় নেন।
কক্সবাজার জেলায় পদায়নের জন্য যেসব পুলিশ সদস্যদের চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম অডিটোরিয়ামে আইজিপি তাদের ব্রিফ করেন। কীভাবে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বপালন করতে হবে এ ব্যাপারে আইজিপি তাদের দিকনির্দেশনা দেন।  মরণনেশা ইয়াবার বিরুদ্ধে জোরাল ভূমিকা পালন করতেও তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি। ইয়াবা বিকিকিনির সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি কী হতে পারে এ বার্তাও দিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।
মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অনেক পুরনো। এ কারণে কক্সবাজারে বদলী হয়ে আসা কিছু পুলিশ সদস্যের জন্য লোভনীয় পদায়ন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর পর শেষ পর্যন্ত সদর দপ্তর থেকে পুলিশের এ কাজের লাগাম টানা শুরু হয়। প্রথম বরখাস্ত হন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রধান পরিদর্শক লিয়াকত আলী। সিনহার বোনের মামলার পর বদলী হন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। এর পরপরই বদলি হন কক্সবাজার সদর থানার ওসি আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির।
গত ২১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদের সাত কর্মকর্তাকে বদলী করা হয়। এর মধ্যে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বরখাস্ত হওয়ার পর টেকনাফ থানায় বদলী হয়ে আসা নতুন ওসি মো. আবুল ফয়সলকে ১১ দিনের মাথায় বদলী করা হয়। টেকনাফে ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাকে বদলী করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজার অঞ্চলের সব পুলিশ সদস্যকেই বদলী করা হবে। এটি নিয়মিত বদলীরই অংশ। পুলিশের ডিআইজি নিয়মিত বদলী বললেও সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মূলত কক্সবাজার জেলা পুলিশের এ শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়।’
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বদলী হওয়া আদেশ অনুযায়ী উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আখতারকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মাসুম খানকে খুলনা রেঞ্জে, কুতুবদিয়া থানার ওসি একেএম সফিকুল আলম চৌধুরীকে খুলনা রেঞ্জে, মহেশখালী থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌসকে বরিশাল রেঞ্জে, রামু থানার ওসি আবুল খায়েরকে রাজশাহী রেঞ্জে, চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল আজমকে রংপুর রেঞ্জে এবং টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহাকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। এভাবে অন্য সব পরিদর্শককে দেশের বিভিন্ন রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে, ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ ও হত্যার পর চট্টগ্রাম মহানগরের সব পুলিশ সদস্যকে একযোগে চট্টগ্রাম রেঞ্জের বাইরে বদলী করা হয়েছিল। ২০০৫ সালের ২৮ আগস্ট ফটিকছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে জামাল উদ্দিন চৌধুরীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares