কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক খানাখন্দকে ভরা, জন দুর্ভোগ চরমে

বেলাল আজাদ,কক্সবাজার প্রতিনিধি

 কক্সবাজার সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে ও পার্বত্য বান্দরবান জেলায় যাতায়তের একমাত্র মাধ্যম কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরোটাই বর্ষার টানা বৃষ্টিতে অসংখ্য খানা-খন্দে ভরে গেছে।
এ সড়কের কক্সবাজার টার্মিনাল থেকে চট্রগ্রামের নতুন ব্রীজ পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়ে কাপের্টিং উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীবাহী বাস সহ সকল ধরণের যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচলে বাড়ছে প্রতিনিয়ত সড়কে দূর্ঘটনা। ফলে ঘরে ফেরা মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রতিনিয়ত এমন অভিযোগ সচেতন যাত্রী সাধারণের।
জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, রামু ও চকরিয়া উপজেলার উপর দিয়ে এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও নতুন ব্রীজ হয়ে প্রায় ১৬৫ কি:মি: দীর্ঘ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
কক্সবাজারে অবস্থিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আর পাহাড়ের রাণী পার্বত্য জেলা বান্দরবন।  এ কারণে দু’টি জেলা পর্যটন সমৃদ্ধ হওয়ায় এ সড়কে দেশ-বিদেশের মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত বেশি। তাই ব্যস্ততম এ সড়কে যান বাহনের চাপও অত্যাধিক। কিন্তু সে হিসেবে সড়ক দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের তদারকি নিয়মিত সংস্কার কিংবা মেরামত তেমন চোখে পড়ে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজরের চকরিয়া অংশের আজিজনগর স্টেশন, হারবাং স্টেশন, বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা, চিরিংগা বাসস্টেশন থেকে নতুন টার্মিনাল, ভেন্ডিবাজার, রিংভং ঢালা, মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, খুটাখালী বাজার, ফুলছড়ি, রামু অংশের জোয়ারিয়ানালা, বাইপাস, খরুলিয়া বাজার, সদর উপজেলার নাপিতখালী, ঈদগাঁও স্টেশন পানিরছড়া বাজার, কালিরছড়া, বাংলাবাজার, লিংক রোড় থেকে উপজেলা পরিষদের সামনে হয়ে কক্সবাজার টার্মিনাল পর্যন্ত এবং চট্টগ্রামের পটিয়ার শান্তিরহাট, আনজুরহাট, পটিয়া স্টেশন, হরনা, চন্দনাইশের রৌশনহাট, বাদামতলী, গাছবাড়িয়া, বাগিছাহাট, হাশিমপুর, দোহাজারী, মৌলভীর দোকান, সাতকানিয়ার কেরাণীহাট, ঠাকুরদিঘী, লোহাগাড়া অংশের পদুয়া তেওয়ারীহাট থেকে উপজেলা সদরের বটতলী মোটর ষ্টেশন, আধুনগর খাঁন হাট ও চুনতি ডেপুটিহাট থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
শুকনো মৌসুমে সংস্কার না করাতে বর্ষায় লাগাতার বৃষ্টিতে পানি জমে এসব গর্ত আরো বড় হয়ে গেছে। যদিও দোহাজারী ও কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, এ মহাসড়কের বাজার ও স্টেশন এলাকায় এবং পাহাড়ী ঢালুতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে সরে যেতে না পেরে জমাট বেধে থাকে। তার উপর দ্রুত গতির ও মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে এসব গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বেশি।
এদিকে, এই মহাসড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত ভারী ও হালকা যানবাহন। যানবাহন চলাচলের সময় গর্তে জমে থাকা ময়লা পানি পথচারীদের গায়ে ছিটকে পড়ছে। আর প্রতিনিয়ত এসব ময়লা পানিতে নষ্ট হচ্ছে মানুষের মূল্যবান কাপড়-চোপড় ও নানা পণ্য সামগ্রী।
দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, মানুষ যাতে এবার সড়ক পথে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য মহাসড়কে আমাদের তিনটি গাড়ি অলরেডি মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে মহাসড়কের সংস্কার কাজ দ্রুতই শেষ করা হবে। একই কথা বললেন কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু কুমার চাকমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares