ওযূ-গোসলের ফযীলত

দৈনিক সকালের ডাক

১।হাদীসঃ হযরত রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি ওযূ শুরু করিবার সময় বিসমিল্লাহ পড়িবে।(   বিসমিল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়া আরো ভাল) এবং প্রত্যেক অঙ্গ ধুইবার সময় আশহাদু-আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া-আশহাদু আন্না মোহাম্মাদান আবদুহু ওয়া-রাসূলুহু পড়িবে এবং ওযূ শেষ করিয়া পড়িবেঃ [আরবী

  অর্থাৎ, হে খোদা! আমাকে তওবাকারী এবং পাক-পবিত্র লোকদের অন্তর্ভূক্ত করুন। তাহার জন্য বেহেশতের আটটি দরওয়াজাই খুলিয়া দেওয়া হইবে। সে মনের আনন্দে যে দরওয়াজা দিয়া ইচ্ছা বেহেশতে প্রবেশ করিবে। আর যদি এইরুপ ওযূ করার পা দুই রাকাআত তাহিয়্যাতুল ওযূ নামায হুজুরীয়ে ক্বলব (একাগ্রতার) সহিত বুঝিয়া পড়িয়া যখন এই নামায হইতে ফারেগ হয়, তখন তাহার সমস্ত (ছগীরা) গোনাহ মাফ করিয়া দেওয়া হয় এবং সে নবজাত শিশুর ন্যায় বে-গোনাহ হইয়া যায়।

২।হাদীসঃ  [আরবী]

হযরত (দঃ) বলিয়াছেন, পাক-ছাফ থাকা ঈমানের (এবং ইসলাম ধর্মের) অর্ধেক অংশ।

৩। হাদীসঃ যে ব্যক্তি ওযূকালে দুরুদ শরীফ পাঠ না করিবে, তাহার ওযূ কামেল হইবে না।

৪।হাদীসঃ যে ঈমানদার খাঁটি দেলে ওযূ করিবে- সে যখন মুখ ধুইবে, তখন পানির শেষ ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষুর দ্বারা যত ছগীরা গুনাহ হইয়াছে, সব মাফ হইয়া যাইবে। তৎপর যখন দুই হাত কনুই পযন্ত ধুইবে, তখন পানির শেষ ফোটার সঙ্গে সঙ্গে হাতের দ্বারা যত ছগীরা গুনাহ হইয়াছে, সব মাফ হইয়া যাইবে। তারপর যখন পা দুইখানি ধুইবে তখন পায়ের দ্বারা যত ছগীরা গোনাহ হইয়াছে, পানির শেষ ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সে সব গোনাহ মাফ হইয়া যাইবে।–মোসলেম শরীফ

৫।হাদীসঃ হযরত রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় খাদম হযরত আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছেনঃ ‘হে আনাস! তুমি ফরজ গোসল করিবার সময় খুব ভাল করিয়া গোসল করিবে, (শরীরের একটি পশমও যেন শুকনা না থাকে। কারণ, একটি পশমের স্থানও শুকনা থাকিলে দোযখের আযাব ভোগ করিতে হইবে)।যদি তুমি (এইভাবে) উত্তমরুপে গোসল কর, তবে গোসলের স্থান হইতে এইরুপে বাহির হইবে যে, তোমার

সমস্ত ছগীরা গোনাহ মাফ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। হযরত আনাস (রাঃ) আরয করিলেন, হুজুর উত্তমরুপে গোসল করার অর্থ কি? হুজুর (দঃ) বলিলেন, চুল এবং পশমের গোড়াগুলিকে খুব ভালভাবে ভিজাইবে এবং সমস্ত শরীর খুব ভাল করিয়া (ডলিয়া ডলিয়া ময়লা) ছাফ করিয়া গোসল করিবে। অতঃপর হযরত (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলিলেন, প্রিয় বৎস, সব সময় ওযূর সঙ্গে থাকিবার চেষ্টা করিও। যদি ইহা পার, তবে বড়ই ফযিলতের জিনিস।কেননা, যাহার মৃত্যু ওযূর হালাতে হইবে, তাহাকে শহীদের মর্তবা দান করা হইবে।–আবু ইয়ালা

৬।হাদীসঃ  [আরবী]

অর্থঃ-মোমিন বান্দার হাত পায়ে যাহার যে পযন্ত ওযূর পা্নি পৌছিবে কেয়ামেতের দিন তাহাকে সে পযন্ত নূরের অলঙ্কার দ্বারা বিভূষিত করিয়া দেওয়া হইবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares