ওযূ করার সময় পড়িবার দো’আ

দৈনিক সকালের ডাক

[নিম্নের দোয়াগুলি মূল কিতাবে নাই, তবে শিখিয়া লইয়া আমল করা ভাল]

ওযূর শুরুকে –আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাত পড়িয়া এই দোয়া পড়িবেঃ –অনুবাদক

[আরবী]

মহান  ও সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহর নামে আরম্ভ করিতেছি।সকল প্রশংসাই তাঁহার জন্য যিনি (আমাকে) ইসলামের উপর রাখিয়াছেন । ইসলাম আলো, কুফর অন্ধকার; ইসলামই সত্য ধর্ম, কুফর মিথ্যা।

  মাঝে মাঝে কলেমা শাহাদাত; দুরুদ শরীফ ও এই দোয়া পড়িবেঃ

 [আরবী]

 ‘আয় আল্লাহ! আমার সমস্ত গোনাহ মাফ করিয়া দাও, আমার বাসস্থান কোশাদা ও শান্তিময় করিয়া দাও এবং আমার রুজিতে বরকত দাও।’

  কব্জি পযন্ত হাত ধুইবার সময় পড়িবেঃ

[আরবী]

  ‘আয় আল্লাহ! আমাকে বরকত ও মঙ্গল দান কর এবং বে-বরকতী ও অমঙ্গল রক্ষা কর। কুল্লি করিবার সময় পড়িবেঃ

[আরবী]

 ‘ আয় আল্লাহ! এই মুখ দিয়া অনেক বেশী করিয়া তোমার জিকির ও তোমার শোকর করিবার তৌফিক দাও।’

  নাকে পানি দিবার সময় পড়িবেঃ

[আরবী]

  ‘ আয় আল্লাহ! এই নাকের দ্বারা যেন বেহেশতের খোশবু লইতে পারি, আর তুমি যেন আমার উপর রাযী থাক, আর দোযখের বদবু ও ঘ্রাণ যেন লইতে না হয়।’

মুখমন্ডল ধুইবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

 ‘ আয় আল্লাহ! সেই দিন আমার চেহারাকে উজ্জ্বল রাখিও যেদিন অনেক লোকের (ধার্মিকদের) চেহারা উজ্জ্বল এবং অনেক লোকের (অধার্মিকদের) চেহারা মলিন হইবে।’

  ডান হাতের কনুইর উপর পযন্ত ধুইবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

 ‘ আয় আল্লাহ! আমার আমলনামা আমার ডান হাতে দিও এবং আমার হিসাব সহজ করিয়া দিও।’

  বাম হাতের কনুইর উপর পযন্ত ধুইবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

  ‘ আয় আল্লাহ! আমার আমলনামা আমার বাম হাতেও দিওনা বা পিছনের দিকেও দিওনা।’ মাথা মাসেহ করিবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

  ‘আয় আল্লাহ! তোমার রহমত দ্বারা আমাকে ঢাকিয়া লও এবং তোমার বরকত আমার উপর নাযিল কর এবং যেদিন তোমার ছায়া ও আশ্রয় ব্যতীত অন্য কোন ছায়া ও আশ্রয় পাওয়া যাইবে না, সে দিন দয়া করিয়া তোমার আশ্রয়ে, তোমার আরশের নীচে আমাকে একটু স্থান দান করিও।’

  কান মাছেহ করিবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

  ‘আয় আল্লাহ! যাহারা ভাল কথা শুনে ও তদনুযায়ী আমল করে, আমাকে তাহাদের দলভূক্ত করিয়া রাখিও. (যেন আমিও ঐ কাজ করিতে পারি)’

  গর্দান মছেহ করিবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

   ‘আয় আল্লাহ! দোযখের আগুন হইতে আমার গর্দানকে ছুটাইয়া লও।(আমাকে দোযখের আগুন হইতে বাঁচাও)’

  ডান পা ধুইবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

  আয় আল্লাহ! সীরাতে মুস্তাক্বীমের (ইসলামের সরল রাস্তার) উপর আমাকে দৃঢ়পদ রাখিও।

  বাম পা ধুইবার সময় পড়িবেঃ [আরবী]

 ‘ আয় আল্লাহ! আমার গোনাহ মাফ কলিয়া দাও। আমার আমল কবুল কর। আমার (জীবনরুপ) ব্যবসায়কে ক্ষতিগ্রস্থ করিও না।(লাভবান করিয়া দাও)’

  ওযূ শেষ করিয়া দাড়াইয়া সূরা ইন্না আনযালনা ও এই দোয়া পড়িবেঃ

[আরবী]

অর্থাৎ ‘আয় আল্লাহ! তুমি পবিত্র, তোমারই প্রশংসা, (তোমারই স্তুতি, আমি তোমারই দাস) তোমার নিকট ক্ষমা চাই, (তোমারই দিকে লক্ষ্য আমার) তোমারই দিকে আমি ফিরি; আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেহ উপাস্য নাই  এবং আমি ইহার সাক্ষ্য দিতেছি যে. মোহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রসূল। আয় আল্লাহ! আমাকে সর্বদা তওবাকারী ও পাক পবিত্রদের শ্রেণীভূক্ত রাখিও এবং তোমার ভক্ত বান্দাদের (ছালেহীন) শ্রেণিভূক্ত রাখিও এবং ক্বিয়ামতের দিন যেসব নেক বান্দার আদৌ কোন ভয় বা চিন্তা থাকিবে না আমাকেও সেই দলভূক্ত রাখিও।’

  হাদীস শরীফে আছেঃ [আরবী] ‘ওযূ মোমিনের হাতিয়ার;’ কাজেই দুনিয়ার ও আখেরাতের কামিয়াবীর উছিলা হইল পাক-ছাফ ও ওযূ-গোসল। সুতরাং পাক-ছাফ ও ওযূ-দোসলের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares