এসএমই নীতিমালা বাস্তবায়নে পাঁচ সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক  

এসএমই নীতিমালা ২০১৯ বাস্তবায়ন, এসএমই উদ্যোক্তাদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নজর দেয়া, ডিজিটাল আর্থিক সেবা শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করে সিএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ বিতরণ নজরদারি করা এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের পণ্য রফতানিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি করার সুুপারিশ জানানো হয়েছে। গতকাল এসএমই খাতে কভিড-১৯-এর ক্ষতি উত্তরণে এসএমই ফাউন্ডেশন ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থা এফইএস বাংলাদেশ আয়োজিত যৌথ আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এই পাঁচ সুপারিশ করা হয়।

অনলাইন প্লাটফর্ম ‘জুম’-এ অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান এবং জার্মানির ক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি ইন্টারন্যাশনালের ভাইস চেয়ার মাইকেল রজলার।

আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ, এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক রাশেদুল করীম মুন্না, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম, অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীয়ত উল্লাহ, বার্লিন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড লর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হ্যান্সজর্গ হার এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও চিটাগং উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এফইএস বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি টিনা ব্লুম। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের শতাধিক গবেষক, পেশাজীবী, এসএমই উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে কভিড-১৯-এর কারণে এসএমই খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের বিষয়টি উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের এসএমই খাত, বিশেষ করে পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সংকটে পড়েছেন গ্রামীণ উদ্যোক্তারা।

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে এসএমই খাতের রাজস্ব ৬৬ শতাংশ কমে গেছে—গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের এমন তথ্য তুলে শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য এসএমই খাতকে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ওয়েবিনারে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে বছরে বিক্রির সবচেয়ে বড় দুই মৌসুম বাংলা নববর্ষ ও ঈদুল ফিতরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উদ্যোক্তারা। অনেক অবিক্রীত পণ্য মজুদ হয়ে আছে। তিনি আরো জানান, এজন্য উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন। কভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে পাঁচশরও বেশি উদ্যোক্তাকে ই-কমার্সবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এসএমই উদ্যোক্তাদের ওপর কভিড-১৯-এর প্রভাব খতিয়ে দেখতে এসএমই ফাউন্ডেশন একটি গবেষণা পরিচালনা করবে বলেও জানান তিনি।

সেমিনারের মূল আলোচনায় এসএমই খাতের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের প্রশংসা করা হয়। তবে প্রণোদনার পরিমাণ আরো বাড়ানোর পরামর্শ এসেছে মূল আলোচনায়। মূল আলোচনায় জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট প্রণোদনার ২২ শতাংশ এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় এ হার ২৪ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩৩ শতাংশ এবং ভারতে মোট প্রণোদনার ৩৮ শতাংশই এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

ওয়েবিনারে আলোচকরা করোনায় এসএমই খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ করণীয়—এ দুই বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, বুলগেরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা ওয়েবিনারে দুটি প্যানেলে আলোচনা করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতিগত সহায়তার ধরন এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। ওয়েবিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares