আল্লাহর নিকট যে নামায সবচেয়ে বেশী প্রিয়

দৈনিক সকালের ডাক

আউয়াবীন নামায

১।মাসআলাঃ মাগরিবের ফরয এবং সুন্নত পড়ার পর কমের পক্ষে ছয় রাকা‘আত এবং উর্ধে বিশ রাকা‘আত নফল নামায পড়িলে অনেক ছওয়াব পাওয়া যায়। ইহাকে আউয়াবীন নামায বলে। (উপরোক্ত নামাযের মতই নিয়্যত করিবে)

তাহাজ্জুদ নামায

২।মাসআলাঃ গভীর রাত্রে এক ঘুমের পর উঠিয়া নামায পড়াকে ‘তাহাজ্জুদ’ নামায বলে। আল্লাহর নিকট এই নামায সবচেয়ে বেশী প্রিয়। হাদীস শরীফে সমস্ত নফলের চেয়ে তাহাজ্জুদ নামাযের বেশি ফযীলত ও ছওয়াব বর্ণিত আছে। এমনকি অনেক আলেম তাহাজ্জুদকে সুন্নতে মোয়াক্বাদা বলিয়াছেন। তাহাজ্জুদ কমের পক্ষে চারি রাকা‘আত এবং উর্ধ্ব সংখ্যা বার রাকা‘আত পড়িবে। দুই রাকা‘আত পড়িলেও তাহাজ্জুদ আদায় হইয়া যাইবে। শেষ রাত্রে উঠিতে না পারিলে এশার পর পড়িয়া লইবে।যদিও শেষ রাত্রের সমান ছওয়াব পাইবে না (তবুও একেবারে ছাড়িয়া দিবে না)

  (এই কয়েক প্রকার নফল নামাযের কথা এখানে বিশেষ করিয়া উল্লেখ করা হইল।) এতদ্ব্যতীত দিনে রাত্রে যত ইচ্ছা নফল নামায পড়া যায়। নফল যতই বেশী পড়িবে ততই বেশী ছওয়াব পাইবে। (তাছাড়া যখন কোন আকষ্মিক ঘটনা ঘটে যেমন, সূর্য গ্রহন বা চন্দ্র গ্রহনকালে, ভূমিকম্প, ঝড় তুফান, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা দুনিয়া অন্ধকার হইয়া যায়, দেশে ওবা, মহামারী বা অন্য কোন বালা মুছীবত আসে, তখন খোদার তরফ রুজু হইয়া নফল নামায পড়িয়া খোদার কাছে কান্নাকাটি করা উচিত।

ছালাতুত তসবীহ

৩।মাসআলাঃ হাদীস শরীফে ‘ছালাতুত তসবীহ’ নামাযের অনেক ফযীলত বর্ণিত আছে। এই নামায পড়িলে অসীম ছওয়াব পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (দঃ) স্বীয় চাচা আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে এই নামায শিক্ষা দিয়াছেন এবং বলিয়াছেনঃ এই নামায পড়িলে আল্লাহ তায়ালা আপনার আউয়াল আখেরের নূতন পুরাতন, ছগীরা, কবীরা (জানা অজানা) সব গোনাহ মাফ করিয়া দিবেন, হে চাচাজান! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার এই নামায পড়িবেন, যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়িবেন, যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়িবেন, যদি মাসে না পারেন তবে বৎসরে একবার পড়িবেন, যদি ইহাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার এই নামায পড়িবেন (তবুও ছাড়িবেন না) এই নামাযের সুন্নত নিয়ম এই যে চারি রাকা‘আত নামাযের নিয়্যত করিবে, (কোন সূরা নির্দিষ্ট নাই, অন্যান্য নফল নামাযের ন্যায় যে কোন সূরা দ্বারা পড়া যায়, তবে এই নামাযের বিশেষত্ব শুধু এতটুকু যে, চারি রাকা‘আত নামাযের মধ্যে প্রত্যেক রাকা‘আতে ৭৫ বার করিয়া মোট ৩০০ বার

[আরবী] এই তসবীহটি পড়িতে হইবে) আলহামদুর পর সূরা পড়িয়াই (ঐ দন্ডায়মান অবস্থায়) ১৫ বার এই তসবীহ পড়িবে, তারপর রুকূতে গিয়া রুকূর তাসবীহ পড়ার পর ১০ বার, তারপর রুকূ হইতে উঠিয়া ক্বওমার মধ্যে ১০ বার, তারপর প্রথম সজদার মধ্যে গিয়া সজদার তসবীহ পড়ার পর ১০ বার, তারপর প্রথম সজদা হইতে মাথা উঠাইয়া বসিয়া জলসার মধ্যে ১০ বার, তারপর দ্বিতীয় সজদার তসবীহ পড়ার পর ১০ বার, তারপর দ্বিতীয় সজদা হইতে মাথা উঠাইয়া বসিয়া ১০ বার, এই পর্যন্ত এক রাকা‘আত হইল এবং এই এক রাকা‘আতে মোট ৭৫ বার তসবীহ হইল। তারপর আল্লাহু আকবার বলিয়া দাঁড়াইয়া এইরুপে দ্বিতীয় রাকা‘আত পড়িবে। দ্বিতীয় রাকা‘আত পড়িয়া যখন আত্তাহিয়্যাতু পড়িবার জন্য বসিবে, তখন আগে ১০ বার তসবীহ পড়িয়া তারপর আত্তাহিয়্যাতু পড়িবে। তৃতীয় ও চতুর্থ রাকা‘আতেও এইরুপে পড়িবে।

৪।মাসআলাঃ (কেহ কেহ বলিয়াছেন, এই নামাযে সূরা আছর, ক্বাওছার, কাফেরুন, এখলাছ পড়া বা তাগাবুন, হাশর, ছফ, হাদীদ পড়া ভাল।) এই চারি রাকা‘আতে যে কোন সূরা পড়িতে পারে, কোন সূরা নির্দিষ্ট নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares