আইসিসি’র কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তদন্ত শুরু করাতেই ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেন তারা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ আসায় আইসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারবে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া ওই কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেরও অনুমতি পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনে হস্তক্ষেপের অগ্রহণযোগ্য প্রচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছে আইসিসি। মানবাধিকার সংগঠন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে।

ট্রাম্প বরাবর আইসিসির সমালোচনা করে আসছেন এই বলে যে, প্রতিষ্ঠানটি ‘মোটেও স্বাধীন নয়।’

আফগানিস্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা যুদ্ধাপরাধ করেছে- এ সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে আইসিসি।

হেগভিত্তিক আইসিসির সদস্য নয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির নাগরিকদের ওপর আইসিসির কার্যত কোনো কর্তৃত্ব নেই।

বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের সইয়ের পরই আইসিসিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো ক্যাঙ্গারু কোর্টের হুমকিতে ভীত নয়।’

আইসিসির যে কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন পম্পেও।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার কোনো প্রমাণ না দিয়েই বলেছেন, ‘রাশিয়ার মতো দেশগুলোর গোপন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত আইসিসি।’

ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত এবং নানা সমালোচনামূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি বলেছে, ‘আদতে ভুক্তভোগীদের ন্যয়বিচার পাওয়ার ওপরই আঘাত হানলো যুক্তরাষ্ট্র।’

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়াশিংটন শাখার পরিচালক আন্দ্রেয়া প্রাসো বলেছেন, ‘আফগানিস্তান, ইসরায়েল বা ফিলিস্তিনে যারা ন্যয়বিচারের প্রতিক্ষায় আছেন, আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক মনোভাব সেই ন্যায়বিচারে আঘাত হানার শামিল।’

আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন ইইউর শীর্ষ ক’টনীতিক জোসেফ বোরেল।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব পক্ষের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে চলতি বছরের শুরুতে সবুজ সংকেত দেয় আইসিসি। তখন থেকেই পম্পেও সে তদন্ত ঠেকাতে উঠে পড়ে লাগেন।

২০০৩ সাল থেকে আফগানিস্তানে দেশটির সরকার, তালেবান, যুক্তরাষ্ট্রসহ লড়াইরত সব পক্ষের বিরুদ্ধেই ওই তদন্ত শুরুর ইঙ্গিত মেলে। আফগানিস্তান আইসিসির সদস্য দেশ। তারপরও আইসিসির যুদ্ধাপরাধ তদন্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares