অস্ত্রোপচারে শিশুর জন্ম,মায়ের জন্য বাড়তি যত্ন

দৈনিক সকালের ডাক

বিভিন্ন জটিলতার কারণে মায়ের তলপেটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু ভূমিষ্ঠ করা হয়। এই অস্ত্রোপচারের নাম সিজারিয়ান। অস্ত্রোপচারের কারণে মায়ের শারীরিক অবস্থা একটু বেশি নাজুক থাকে, নানা জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এ সময় মায়ের দরকার বাড়তি কিছু যত্নআত্তি ও সচেতনতা।
১. ছয় মাস পর্যন্ত ভারী কাজ করা নিষেধ। অন্তত দেড় মাস স্বামী সহবাসও নিষেধ।
২. প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। প্রচুর পরিমাণ তরল, যেমন দুধ, স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি খেতে হবে। কেননা শিশুকে স্তন্যপান করানোর জন্য শরীরে প্রচুর পানির মজুত থাকা চাই।
৩. শাকসবজি এবং ফলমূল মায়ের খনিজ ও ভিটামিনের অভাব পূরণ করবে। অস্ত্রোপচারের সময় যে রক্তপাত হয়েছিল, তা পূরণ করতে প্রচুর আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার চাই। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রেহাই পেতে প্রচুর আঁশযুক্ত খাদ্য বেছে নিন। বুকের দুধের জোগান ঠিক রাখতে চাই ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন দুধ।
৫. শিশু জন্মের পরই মায়ের বুকে যে হলদেটে দুধ আসে, তার নাম শালদুধ। এটা শিশুর জন্য খুব দরকারি। অস্ত্রোপচার বা স্বাভাবিক প্রসব হোক—শিশুকে অবিলম্বে মায়ের বুকে দিতে হবে। মায়ের ত্বকের সংস্পর্শ শিশুকে স্বাভাবিক তাপমাত্রা পেতে সাহায্য করে।
৬. আধঘণ্টার মধ্যে শিশুকে স্তন্যপান করানো উচিত। স্তন্যপান শুরু করার সময় যে হরমোনগুলো নিঃসৃত হয়, তা মায়ের জরায়ু সংকুচিত করতে ও রক্তপাত বন্ধ হতে সাহায্য করে।
৭. সাবান পানি ব্যবহার করে মা গোসল করতে পারেন। গোসলের পর সাবধানে তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন। জীবাণুরোধী মলম ব্যবহার করতে পারেন। অবশ্যই পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
৮. পরদিনই মা স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও কাজকর্ম করতে পারবেন। তবে মেরুদণ্ডে চেতনানাশক ব্যবহার করায় পরে কোমরে ও মাথায় ব্যথা হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পরপর বেশ কিছুক্ষণ সোজা হয়ে শুয়ে থাকলে এটি কম হয়।

ডা. ফারহানা মোবিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares